চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিচারের নামে প্রহসনের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিচারের নামে প্রহসনের অভিযোগ ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীসহ তার পরিবারকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে।
ওই পরীক্ষার্থী ও তার পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের পর উল্টো হুমকি দেয়া হচ্ছে। এছাড়া চেয়ারম্যান মতি ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন। সব কিছুতেই ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে চেয়ারম্যান মতি।
মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী এইচএসসি পরীক্ষার্থী মোহাম্মদ আবু রায়হানসহ তার পরিবারের লোকজন এসব অভিযোগ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী রায়হানের বাবা রফিকুল ইসলাম, চাচাতো ভাই আব্দুল্লাহ আল ইমরান, ছোট চাচাতো ভাই মো. নোমান আহম্মেদ, চাচা সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে রায়হান বলেন, গত ৪ মে রাতে আলীরটেক মুক্তারকান্দি এলাকায় আমার ছোট বোনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে বর পক্ষের লোক বিদায় নিয়ে ফেরত যাওয়ার সময় খবিরউদ্দিন মতি চেয়ারম্যানের আত্মীয় নওয়াব মিয়ার ছেলে মাহবুব ও মুন্নার ছেলে আলামিন মদপান করে উত্ত্যক্ত করে।
মেয়েটি তার প্রতিবাদ করলে তাকে চুলে ধরে মারধর করে ও ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখায়। এতে মেয়ের আত্মীয়রা তাকে ছাড়িয়ে প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর করে সন্ত্রাসীরা। পরবর্তীতে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলে তারা উল্টো সবাইকে আটকে রাখার ঘোষণা দেয়। এ সময় চেয়ারম্যানের আত্মীয়সহ বাকি সবাই দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বিয়ে বাড়ির গেট ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে আমাদের ২ ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনায় মতি চেয়ারম্যানকে জানানো হলে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ি। চেয়ারম্যান মতিউর রহমান তার আত্মীয় ও সঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে বিচার করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উল্টো মধ্যযুগীয় কায়দার আমাদের ওপর নির্মম নির্যাতন করে।
অভিযোগের প্রাথমিক পর্যায়ে মতি চেয়ারম্যান আমদের বাসায় এসে তার ভাই, ভাতিজা ও তাদের সহযোগীদের বাদ দিয়ে শুধু খবিরউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করতে বলেন। কিন্তু খবির মিয়া আমদের কাছে এ ব্যাপারে ক্ষমা চাইলে আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করতে অস্বীকৃতি জানাই এবং যারা মারামারি করে আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখল তাদের বিচার করতে বলি। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হন। সেই সঙ্গে তার নির্দেশে নোয়াব মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে।
গত ১৯ মে শুক্রবার বিকেলে আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আমাদের কথা না শুনে শুধু একতরফা বিচার করে উল্টো আমাদেরকে শাস্তি দেন মতি চেয়ারম্যান। আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলার পরেও আমাকে ১০০টি বেত্রাঘাত করা হয়। এছাড়া আমাদের ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করাসহ অন্যদের শাস্তি দেয়া হয়।
এ সময় কেউ শাস্তির ছবি তুললে তার হাতের রগ কেটে দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ খবর স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলে মতি চেয়ারম্যান সংবাদের প্রতিবাদ দেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছে।
এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সদর থানায় জিডি করা হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করছে না। এতে মতি মিঞা বলেন পুলিশ সুপার তার কাছের লোক তাই তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবে না।
জানতে চাইলে আলীটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতে ওই ছেলের মামা ও ভাগ্নে তাকে আঘাত করে। তবে আমি সেই সময় বাধা দেই। মূলত এই ছেলে একটি ছেলেকে আহত করেছে। যার প্রেক্ষিতে মামলা দিয়েছে। ওরা গত কয়েকদিন ধরে এর জন্য আমার পেছনে ঘুরছে। তারা এখন পর্যন্ত বিচারের ৮০ পয়সাও দেয় নাই। এ বিচার আমি করি নাই, গ্রাম পঞ্চায়েত করছে। বিচারের রায় ওনার দিয়েছেন, আমি না।
শাহাদাত হোসেন/এএম/পিআর
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ বিদ্রোহে টালমাটাল বিএনপি, সুযোগের আশায় জামায়াত
- ২ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা কার নির্দেশে তা স্পষ্ট করতে হবে
- ৩ কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়রসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
- ৪ ৩০০ ফিটে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবদল নেতা নিহত
- ৫ নির্বাচনে সাড়ে ৩ হাজার কোস্টগার্ড মোতায়েন থাকবে: মহাপরিচালক