ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সাতদিন ধরে ছাত্রী নিখোঁজ : অভিযুক্তের দাবি জিনের কারসাজি

প্রকাশিত: ০৮:৫৮ এএম, ০১ জুন ২০১৭

বরগুনায় নিখোঁজের সাত দিনেও উদ্ধার হয়নি মাদরাসাছাত্রী জান্নাতি (১৪)। গত ২৬ মে শুক্রবার বিকেলে বরগুনা শহরের ডিকেপি সড়কের বটতলা এলাকার জান্নাতুল মাওয়া হাফেজি মাদরাসা থেকে সে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় নিখোঁজ শিক্ষার্থী জান্নাতির পরিবার মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে অভিযুক্ত করলেও মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আব্দুল আউয়াল সিরাজ এ ঘটনাকে জিন-পরীর কারসাজি বলে মন্তব্য করেছেন।

আব্দুল আউয়াল সিরাজের বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে (এটিবি) সম্পৃক্তার অভিযোগে বরগুনা থানায় মামলা রয়েছে। আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এটিবি) এর প্রধান মুফতি জসিম উদ্দীন আনসারীর সঙ্গে বৈঠকরত অবস্থায় ২০১৩ সালে ১২ আগস্ট বরগুনার খাজুরতলা থেকে তাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

এদিকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর মেয়ের কোনো খবর না পেয়ে গত মঙ্গলবার বরগুনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছে নিখোঁজ জান্নাতির মা মাহফুজা বেগম। মামলায় জান্নাতুল মাওয়া হাফেজি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আলহাজ্ব আব্দুল আউয়াল সিরাজ (৫০) এবং তার স্ত্রী মোসাম্মত চম্পা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে ঐদিনই আব্দুল আউয়াল সিরাজকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার বিবরণী ও নিখোঁজ শিক্ষার্থী জান্নাতির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা-কুমড়াখালী গ্রামের মো. গোলাম সরোয়ারের দুই মেয়ের মধ্যে জান্নাতি ছোট। ২০১৩ সালে জান্নাতি স্থানীয় ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

এরপর বরগুনার কলেজ রোড এলাকার খাদিজাতুল কোবরা মহিলা হাফেজি মাদরাসায় এক বছর পড়াশোনা করে জান্নাতি। পরে মানসম্মত পড়াশোনার জন্য খাদিজাতুল কোবরা মাদরাসা থেকে তিন মাস আগে আব্দুল আউয়াল সিরাজ পরিচালিত জান্নাতুল মাওয়া মহিলা হাফেজি মাদরাসার আবাসিক কোঠায় ভর্তি করানো হয় জান্নাতিকে।

গত ২৫ মে বৃহস্পতিবার জান্নাতুল মাওয়া মাদরাসা থেকে এক দিনের জন্যে জান্নাতিকে বাড়ি বেড়াতে নিয়ে যান তার মা মাহফুজা বেগম। পরেরদিন ২৬ মে (শুক্রবার) বিকেলে পূনরায় জান্নাতিকে তার মাদরাসায় নিয়ে আসেন এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আব্দুল আউয়াল ও তার স্ত্রী চম্পা বেগমের কাছে জান্নাতিকে রেখে যান জান্নাতির মা মাহফুজা বেগম।

জান্নাতিকে মাদরাসায় রেখে বাড়ি ফেরার পথে রাত ৮টার দিকে আব্দুল আউয়াল সিরাজের স্ত্রী চম্পা বেগম জান্নাতির মা মাহফুজা বেগমকে মুঠোফোনে জানান, জান্নাতিকে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই থেকে আজ সাত দিন অতিবাহিত হলেও জান্নাতির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

জান্নাতির বাবা মো. গোলাম সরোয়ার একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য। অবসরে এসে তিনি নিজ এলাকায় ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। পরে ইউপি সদস্য হিসেবে তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হলে বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি কম্পানিতে চাকরিরত রয়েছেন।

এ বিষয়ে জান্নাতুল মাওয়া মহিলা হাফেজি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অভিযুক্ত আব্দুল আউয়াল সিরাজ গ্রেফতারের পর বরগুনা থানায় উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, জান্নতী নিখোঁজের বা অপহরণের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তিনি আরো বলেন, জান্নাতীকে জিনে নিয়ে গেছে। জিন হয়তো কিছুদিন পর তাকে ফিরিয়ে দিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে আব্দুল আউয়াল সিরাজের স্ত্রী চম্পা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার বাসায় গিয়েও পাওয়া যায়নি।

জান্নাতুল মাওয়া মহিলা হাফেজি মাদরাসার শিক্ষিকা মোসা. মাহফুজা বেগম বলেন, ঘটনার দিন তিনি মাদরাসায় উপস্থিত ছিলেন না। তবে তিনি শুনেছেন বাড়ি থেকে মাদরাসায় ফেরারা পর জান্নাতির মন খুব খারাপ ছিল।

জান্নাতি মাদরাসা থেকে রাস্তায় বের হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এরপর থেকেই জান্নাতি উধাউ হয়ে যায়। এখনও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা থানার উপ-পরিদর্শক মো. মশিউর রহমান জানান, মামলার প্রেক্ষিতে আব্দুল আউয়াল সিরাজকে গত মঙ্গলবারই গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদুজ জামান বলেন, মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

সাইফুল ইসলাম মিরাজ/এফএ/পিআর