ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পাঁচবিবিতে সরকারি খাদ্য গুদামে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৬:২১ এএম, ১৫ মে ২০১৫

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় সরকারি খাদ্য গুদামে গম ক্রয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গম কেনা  হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত গম চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৩ লাখ ৯৮ হাজার কেজি গম কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৯ এপ্রিল গম কেনার কাজ শুরু হয়। প্রতি কেজি গমের দাম ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে গম কেনার কথা থাকলেও সাধারণ কৃষকদের বঞ্চিত করে মাত্র দুই দিনে ২ লাখ ৫০ হাজার কেজি গম স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে।

বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গম ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৃষক সরাসরি সরকারি খাদ্য গুদামে গম বিক্রি করতে পারলে প্রতি কেজিতে ৮ টাকা বেশি পেতেন। সেই হিসেবে ৩ লাখ ৯৮ হাজার কেজি গমের বিপরীতে কৃষক ৩১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা বেশি পেতেন।

খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী উপ-পরিদর্শক ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা ও ব্যবসায়ীদের সাথে গোপন বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রতি মেট্রিক টনে ১ হাজার ৪ শ টাকা চুক্তি হয়। টাকার বিনিময়ে উপ-সহকারী খাদ্য পরিদর্শক লিটন কুমার রায় রাতে খাদ্য গুদামের সীলযুক্ত বস্তা ও আগের বছরের কৃষি ভর্তুকি কার্ড ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করেন। কাক ডাকা ভোরে ব্যবসায়ীদের গম ওই সব বস্তায় ভর্তি করে মান নিয়ন্ত্রণ না করেই গুদামে ঢুকানো হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত গম ক্রয়ের সময়সীমা থাকলেও মাত্র ৩ দিনের বরাদ্দে ৩‘শ ৯৮ মেট্রিক টন গম ক্রয় শেষ দেখানো হয়।

পাঁচবিবি উপজেলার বালিঘাটা গ্রামের কৃষক বিশ্বজিৎ জানান, ২ একর জমিতে গম চাষ করেছি। কৃষি ভর্তুকি কার্ডসহ খাদ্য গুদামে গম বিক্রি করতে গেলে কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন গম কেনা শেষ হয়েছে। গোপালপুর গ্রামের কৃষক মোবারক আলী, নওদা গ্রামের কৃষক শ্রী অসিত কুমারও একই অভিযোগ করেন।

একাধিক কৃষক বলেন ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ও ব্যবসায়ীরা ভুয়া কৃষি ভর্তুকির কার্ড দেখিয়ে গম বিক্রি করেছেন। ওজন মান ও মজুত ফরমে ব্যবসায়ীরা জাল স্বাক্ষর করে বিল উত্তোলন করেছেন। কৃষি ভর্তুকি কার্ডে সংশ্লিষ্ট কৃষকের স্বাক্ষরের সাথে ওজন মান ও মজুত ফরমের স্বাক্ষরের কোন মিল নেই।

এ বিষয়ে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবাইদুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী গম ক্রয় করা হয়েছে। কোন অনিয়ম করা হয়নি।

পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর উদ্দিন আল ফারুক বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী গম ক্রয়ের আগেই মাইকিং করার কথা থাকলেও তারা সেটি করেন নাই। আমি চাপ দেওয়াতে শেষের দিকে মাইকিং করেছেন। আমি চাই ওই প্রতিষ্ঠানটি কলুষিত মুক্ত হোক।

এসএস/এমএস