ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

চুয়াডাঙ্গায় দোকানপাট বন্ধ : ঈদের কেনাকাটায় ভোগান্তি

প্রকাশিত: ০৭:৫২ এএম, ১২ জুন ২০১৭

চুয়াডাঙ্গায় পুলিশ সুপারের অপসারণ দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের হয়রানি বন্ধ ও পুলিশ কর্তৃক ব্যবসায়ী নেতাকে মারধরের প্রতিবাদে রোববার বিকেল থেকে জেলা শহরের সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখা।

ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও সমাবেশের পর এ অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘটের ডাক দেন।

সোমবার সকাল থেকে জেলা শহরে কোনো দোকানপাট খোলা হয়নি। ব্যবসায়ীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। তবে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষ হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তারা জেলা শহরে কেনাকাটা করতে এসেও ফিরে যাচ্ছে।

কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে এ প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, এ নিয়ে শিগগিরই আমাদের বৈঠক হবে। সেখানেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হতে পারে।

জানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের রেল বাজারের বিশ্বাস স্টোর ও নিউ বিশ্বাস স্টোরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফখরুল আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালান। দুটি দোকান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট পাওয়ার অপরাধে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। দোকান মালিক আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিন জরিমানার টাকা দিতে অস্বীকার করেন।

এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে দুই ব্যবসায়ীকে পুলিশ আটক করতে গেলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আরেক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তরিকুল ইসলাম সেখানে আসলে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দীনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে।

Chuadanga

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পুলিশ সুপারের মারমুখী আচরণের কারণে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন ব্যবসায়ীরা। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের এক পর্যায়ে পুলিশ সুপার বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি আশাদুল হক লেমনকে চড় মারেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করেন। এ সময় পুলিশ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইবরুল হাসান জোয়ার্দ্দার ইবুসহ সাধারণ ব্যবসায়ী শামসুল ইসলাম ও সেলিম হোসেনকেও মারধর করেন। পরে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ব্যবসায়ীরা। এসময় অন্যদের মধ্যে পুলিশের লাঠির আঘাতে শান্তি নামের এক ব্যবসায়ী রক্তাক্ত জখম হন। তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে আটকের ঘণ্টা খানেকের মাথায় আটক তিনজনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে জেলা শহরের ফেরিঘাট রোডস্থ সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে জরুরি সভায় মিলিত হন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। পরে তারা বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা শহরের বড় বাজারে রাস্তার ওপর সমবেত হয়ে কর্মসূচি ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে দোকান মালিক সমিতির জেলা সভাপতি আশাদুল হক লেমন বলেন, এসপি সাহেব আমাকে থাপ্পড় মেরেছেন। অনেকে ব্যবসায়ী পুলিশের হাতে আহত হয়েছেন। তাই এসপির অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত জেলা শহরের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

একই ঘোষণা দেন সাধারণ সম্পাদক ইবরুল হাসান জোয়ার্দার। এ ঘোষণার পরপরই সাধারণ ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তারা জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এসময় শহরের সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

সালাউদ্দীন কাজল/এফএ/পিআর