ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সিরাজগঞ্জে খুরারোগে ৪২ গরুর মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৭:০৯ এএম, ১৬ জুন ২০১৭

সিরাজগঞ্জের তাড়াশের তালম ইউনিয়নে গত এক সপ্তাহে খুরারোগে আক্রান্ত হয়ে ৪২টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে আরও শতাধিক গরু। প্রতিদিন সুস্থ গবাদি পশু নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ঘটনায় গরুর মালিকেরা তাদের পশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে রোগ থেকে পশুদের রক্ষা করতে অনেকেই গবাদি পশুগুলো দূরের আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন ও বিক্রি করে দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী ঢাকা থেকে চিকিসৎকরা এসে ওই গ্রামে ক্ষুরারোগে আক্রান্ত গরুগুলোর চিকিৎসা ও মালিকদের পরামার্শ দিয়ে গেছেন। উপজেলা পশুসম্পদ কার্যালয় থেকেও আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

তাড়াশ উপজেলা পশুসম্পদ কার্যালয় ও স্থানীয়রা জানায়, এক সপ্তাহ ধরে ওই গ্রামে হঠাৎ করে খুরারোগ দেখা দেয়। এরপর থেকেই পর্যায়ক্রমে গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবারের গরুগুলো আক্রান্ত হতে থাকে। গরুগুলো আক্রান্ত হওয়ার পর তার মুখে ও পায়ে বিভিন্ন ক্ষত দেখা দেয়। গরুগুলো খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়ে দু-এক দিন ভোগার পর মারা যায়।

তালম ইউনিয়নের জয়নাল হোসেন, ময়নাল, আনিছুর রহমান, আবু হোসেন, ইউছুফ আলী, শফিকুল ইসলাম, আলী হাসান, জাকির হোসেন, আব্দুল মতিন, মনছুর রহমান ও আব্দুল মজিদের গরু আক্রান্ত হয়ে তিন দিন থাকার পর মারা গেছে। গত এক সপ্তাহে তাদেরসহ গ্রামের অন্য লোকের মিলে ৪২টি গরু মারা গেছে।

গরুর মালিক আতাউর রহমান ও আব্দুল মতিন জানান, পাশের বাড়ির তিনটি গরু খুরারোগে আক্রান্ত হয়েছে। আমার দুটি গরু ভালো থাকায় বাড়ি থেকে অন্য গ্রামের আত্মীয় বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। যদি প্রথমেই পশুসম্পদ কার্যালয়ের লোকজন রোগ প্রতিষেধক টিকা দিত, তাহলে এভাবে মহামারিভাবে রোগ বিস্তার ঘটত না।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আবু হানিফ বলেন, এটি একটি সংক্রামক রোগ। বাতাসের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার ঘটে। গ্রামের কোনো ব্যক্তি বাইরে থেকে একটি খুরারোগে আক্রান্ত গরু নিয়ে আসায় পুরো গ্রামে তা ছড়িয়ে পড়েছে।

এ রোগে আক্রান্ত গরুগুলোর মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ ভাগই মারা যায়। খুরারোগে আক্রান্ত গরুকে ভ্যাকসিন দেওয়া যায় না। প্রতিষেধক হিসেবে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়ে থাকে। আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসকেরা চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/এমএস