ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গোপালগঞ্জে বারি-৬ মুগ ডালের বাম্পার ফলন

প্রকাশিত: ১১:৩৫ এএম, ১৭ মে ২০১৫

গোপালগঞ্জে বেসিনে বারি-৬ জাতের মুগ ডালের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট উদ্ভাবিত এ জাতের মুগডাল চাষ করে কৃষক প্রতি বিঘায় ৭ মণ  ফলন পেয়ে অর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

গোপালগঞ্জ বেসিন পাইলট প্রজেক্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় ৭ শ’ বিঘা জমিতে বারি-৬ জাতের মুগ ডালের আবাদ করা হয়েছে।

সুকতাইল গ্রামের কৃষক গাউস আলী শেখ বলেন, এ বছর আমি ২ বিঘা জমিতে বারি ৬ জাতের মুগ আবাদ করেছি। প্রতি বিঘায় ৭ মণ ফলন পেয়েছি। বাজারে প্রতিমণ মুগ ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি বিঘায় সাড়ে ১০ হাজার টাকার মুগ উৎপাদিত হয়েছে। প্রতি বিঘায় মুগ আবাদে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। খরচ বাদে লাভ হবে সাড়ে ৬ হাজার টাকা।

ক্ষেত থেকে মসুর উঠানোর পরই বারি-৬ মুগ আবাদ করা যায়। মুগ কাটার পর জমিতে আমন ধান বপণ করা যায়। একই জমিতে পরপর ৩ ফসলের চাষ করা যায়। বারি মুগ-৬ আবাদ করে মাত্র ৬০ দিনে বাম্পার ফলন পেয়েছি। আগে আমরা এ জমিতে পাটের আবাদ করতাম। পাট কাটার পর আমন ধান আবাদ করতে দেরি হয়ে যেতো। তিন ফসল করা সম্ভব হতো না। কিন্তু লাভজনক মুগ চাষ করলে তিন ফসল আবাদ করা যায়।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রণজিৎ বিশ্বাস বলেন, গোপালগঞ্জে বেসিনে মুগডালভিত্তিক শস্য চাষাবাদ আগে হতো না। বারি-৬ জাতের মুগের অন্যতম উদ্ভাবক ড. আশরাফ হোসেন গোপালগঞ্জ বেসিন পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে বীজসহ অন্যান্য উপকরণ গোপালগঞ্জের কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সরবরাহ করেন। প্রকল্প ও কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ জেলার কৃষক এ বছর প্রথম বারি-৬ জাতের মুগ আবাদ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। এখন মুগ বিক্রি করে তারা কাঁচা পয়সা ঘরে তুলছেন।

বারি মুগ-৬ জাতের অন্যতম উদ্ভাবক ড. আশরাফ হোসেন বলেন, বারি মুগ-৬ অল্প সময়ে বাম্পার ফলন দেয়। এ মুগে পোকার আক্রমণ হয়না। স্থানীয় জাতের তুলনায় বারি জাতে ৩গুণ বেশি ফলন পাওয়া যায়। মুগ তোলার পর মুগের গাছ ও পাতা মাটির সাথে মিশিয়ে দিলে জমিতে জৈব সার তৈরি হয়। পরবর্তীতে ফসলের ভাল ফলন পাওয়া যায়। ডাল চাষে অন্য যে কোনো সফলের তুলনায় সেচ ও সার কম প্রয়োগ করতে হয়। ডাল ফসল শেকড়ের গুটির মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন আবদ্ধ করে মাটির উর্বরতা বাড়ায়। ডাল খাদ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সমীর গোস্বামী বলেন, গোপালগঞ্জে ডাল আবাদে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম বছর কৃষক বারি মুগের চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে। এ জেলার কৃষি উন্নয়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে বারি মুগ-৬ ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।  

এসএম হুমায়ূন কবীর/এসএস/আরআইপি