ভারতীয় কাপড়ের দখলে সিলেটের ঈদবাজার
ভারতীয় পোশাক দখল করে আছে সিলেটের ঈদবাজার। পার্শ্ববর্তী এই দেশটি থেকে সীমান্ত দিয়ে আসা কাপড়ই ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষে। এছাড়া থাইল্যান্ড ও আরব আমিরাতের পোশাকও ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
শেষ সময়ে এসে ক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত সিলেটের শপিংমলগুলো। সকাল ৯টা থেকে থেকে সেহরি পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। ঈদ উপলক্ষে বাজারে এসেছে বাহারি পোশাক। নগরের ফুটপাত থেকে শুরু করে বিলাশবহুল শপিংমল সব জায়গায়ই ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। পুরো নগরই যেন এখন ঈদবাজার।
প্রতি বছরের ন্যায় এবার সিলেটের ঈদবাজারের একটি বড় অংশ দখল করে থাকে ভারতীয় পোশাক। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। ঈদ উপলক্ষে বিক্রেতারাও ভারত থেকে নিয়ে আসেন নতুন ডিজাইনের কাপড়। কাপড়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত পথে চোরাচালানও বেড়ে যায় এ সময়।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরের সিটি সেন্টার, মিলেনিয়াম, কাকলী, ব্লু-ওয়াটার, আল-হামরা, সিলেট প্লাজা, মধুবন, শুকরিয়া মার্কেট, আড়ং, মাহা, লা-রিভ, কাশিস, দেশিদশ, মাহা ও মনোরমসহ কুমারপাড়া রোডের বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। রঙ-বেরঙের বাহারি ডিজাইনের পোশাক শোভা পাচ্ছে সবখানে।
কেনাকাটার শেষ মুহূর্তে পুরো নগর এখন ঈদবাজার। ব্যবসায়ীদের দাবি প্রতিবারের মতো এবারও ভারতীয় পোশাকের চাহিদাই বেশি। মেয়েদের জন্য ভারতীয় পোশাক কুর্তি, লং স্কার্ট, লেহেঙ্গা ও ছেলেদের জন্য সেমিলং এবং শর্ট পাঞ্জাবি বেশি চলছে এবার এখানকার ঈদ বাজারে। যার সবগুলই ভারতীয় পোশাক।
সরেজমিনে বিপণিবিতানগুলো ঘুরে পাওয়া গেল তার সত্যতা। এই বছরও ভারতীয় পোশাকের কদর বেশি। শিশু থেকে শুরু করে মধ্যবয়সীরাও ভারতীয় পোশাকের দিকেই ঝুঁকছেন বেশি।

বিক্রেতাদের সঙ্গে ক্রেতারাও স্বীকার করেন, এবারের ঈদে দেশি পোশাকের চেয়ে বিদেশি পোশাকের প্রতি তাদের নজর বেশি। এ ছাড়া ভারতের পর থাইল্যান্ড ও দুবাই থেকে কিছু কাপড় এসেছে। অন্যদিকে গেঞ্জি, টি-শার্ট ও জুতোর বাজার দখল করে আছে চীন আর বোরকা ও হিজাবে ওড়নার জায়গা দখল করে নিয়েছে পাকিস্তান।
তবে তাদের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করে আছে ভারত। কারণ বিদেশি শাড়ি ও থ্রি-পিসের প্রায় সবই ভারতের। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেকটা ভিন্নতা রয়েছে দোকানগুলোতে।
বিপণিবিতানগুলো ঘুরে দেখা যায়, বড়-ছোট বেশ কয়েকটা দোকানে ঈদের বাজারের পোশাক ভারতীয় ব্র্যান্ডের দখলে তাই নয়। রয়েছে নাম ধামও ভারতীয় অভিনেতা, অভিনেত্রী ও সিরিয়ালের নামেই চলছে।

নগরের পূর্ব জিন্দাবাজারের কাকলি শপিং সেন্টারের সাবিহা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী আমিন আহমদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ রকম নামের পোশাক আমারা বিক্রি করি না বা এসব পোশাক বলতে বাজারে এমন কিছু নেই। তবে যারা নাম ব্যবহার করে পোশাক বিক্রি করছেন এইটা হয়ত তাদের বিক্রি বাড়ানোর জন্য করছেন।
সিলেট সিটি সেন্টারের মলিকা শাড়ি ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী বলেন, এবার ভারতীয় কাতান, ডিআইডি কটন, পেপার সিল্ক, গাউন, ব্রাইডাল গাউন, ইন্ডিয়ান বেনারসি, কাঞ্চিবরণ, মিনাকুমারী, মৌ-মাস্তান, কাশ্মিরী সিল্ক ইত্যাদি শাড়ি বিক্রি করছি। এখন পর্যন্ত বিক্রিও ভালো।
তবে ভারতীয় পোশাক বেশি বিক্রি হলেও দেশীয় বুটিকসের পোশাকের বিক্রি কম-তা বলা যাবে না। নগরের নয়া সড়কের আড়ং, নাইওরপুল এলাকায় দেশিদশ, রঙ, শৈল্পিক, বিশ্বরঙ , ইজি ফ্যাশনসহ বিভিন্ন দেশী ব্যান্ডের শো-রুমের দেশি পোশাকও বেশ বিক্রি হচ্ছে।
বিএ