ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঈদের আনন্দ নেই ওদের

জেলা প্রতিনিধি | চাঁদপুর | প্রকাশিত: ০৫:৫২ এএম, ২৫ জুন ২০১৭

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কয়েকটি ভূমিহীন আশ্রয়ন প্রকল্পবাসী ও বেড়িবাধে আশ্রয় নেয়া অধিবাসীরা ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত। ঈদ এদের জীবনে কখনই বাড়তি আনন্দ বয়ে আনে না। বছরের অন্যান্য দিনের মতোই কাটায় ঈদের দিনটি।

মতলব উত্তর উপজেলার কয়েকটি ভূমিহীন আশ্রয়ন প্রকল্পের সহস্রাধিক শিশু-কিশোর ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। তাদের মাঝে নেই নতুন জামা-কাপড় পরে ঈদ উদযাপনের পরিকল্পনা। পরিবারের বড়রা ঈদের কেনাকাটা না করার কষ্ট চেপে রাখতে পারলেও ছোটদের নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। তাই নদী ভাঙনের শিকার হয়ে এই আশ্রয়ন প্রকল্প ও বাধে আশ্রয় নেয়া হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে নেই ঈদকে ঘিরে বাড়তি কোনো আয়োজন।

পদ্মা-মেঘনার ভাঙনে সব হারিয়ে এখলাছপুর আশ্রয়ন প্রকল্পে ঠাঁই পেয়েছে ১৩০টি পরিবার। এসব পরিবারে এক হাজার ৩ শতাধিক বেশি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুরবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার বেলতলী আশ্রয়ন প্রকল্প, দুর্গাপুর আশ্রয়ন প্রকল্প, চরউমেদ আশ্রয়ন প্রকল্প, ছোট চরকালিয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের শিশুরাও ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত থাকে।

সরেজমিনে এখলাছপুর, বেলতলী ও দুর্গাপুর আশ্রয়ন প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, আশ্রয়ন নেয়া পরিবারগুলো বেশির ভাগই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন নদীতে ইলিশ মাছ শূন্য। অভাব-অনটনের সঙ্গে বেঁচে থাকার লড়াই তাদের নিত্যদিনের সঙ্গি। ওদের বেঁচে থাকা মানেই ভালো থাকা। দিন এনে দিন খেতেই কষ্ট। তাদের আবার ঈদে নতুন কাপড়, পোলাউ-কোরমা ও সেমাই ভাগ্যে জোটবে কি করে? তাই শতকরা ৯০ ভাগ শিশুর অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ঈদের জামা-কাপড় কিনে দিতে পারেনি।

আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা মাজেদা বেগম জাগো নিউজকে জানান, তার স্বামী নদীতে মাছ ধরে যা পায় তা দিয়ে ৫ সন্তান নিয়ে খেয়ে-পরে কোনো রকম বেঁচে আছেন। নদীতে এখন মাছ নেই, পরিবারের আহার জোগাতে পারে না, আবার সন্তানদের নতুন জামা-কাপড় দিবে কোথা থেকে?

এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোসাদ্দেক হোসেন মুরাদ জাগো নিউজকে জানান, আশ্রয়ন প্রকল্পের পরিবারগুলো বেশিরভাগই জেলে হওয়ায় নদীতে মাছ না থাকলে তখন তাদের দুঃখ-কষ্ট বেশিই দেখা দেয়। তবে জেলেদের সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তিনি সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের আশ্রয়ন প্রকল্পের ছেলে-মেয়েদের সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

ইকরাম চৌধুরী/এমএএস/জেআইএম