গৃহবধূকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ
যৌতুক না দেয়ায় স্বামীর পরিবার হত্যা করে গলায় রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে রেশমিকে। এমনটাই অভিযোগ নিহত রেশমির পরিবারের। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের পূর্ব চরসন্দি (মালতকান্দি) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার লক্ষিপুর ইউনিয়নের সূর্যমনি গ্রামের জুলহাস ঘরামীর মেয়ে রেশমির (২৬) সঙ্গে শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের পূর্ব চরসন্দি (মালতকান্দি) গ্রামের রব সরদারের ছেলে ফরিদ সরদারের ২০১১ সালে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় রেশমির পরিবার ফরিদের পরিবারকে যৌতুক হিসেবে দুই লাখ টাকা ও তিনভরি স্বর্ণ দেয়।
দুইমাস আগে ফরিদ বাড়ি তৈরি করবে বলে রেশমির বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা আনতে বলে। টাকা আনতে না পারায় একাধিকবার মারধরও করে। গতকাল বুধবার রাতে টাকা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে তর্ক। পরে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী ফরিদ, শ্বশুর রব সরদার, শাশুড়ি চাঁনভানু ও ভাসুর নাছির সরদার মিলে রেশমিকে বেপরোয়া ভাবে মারধর করলে রেশমি মারা যান। পরে ফরিদের বাড়ির পেছনের পেয়ারা গাছের সঙ্গে গলায় রশি দিয়ে রেশমিকে ঝুলিয়ে রেখে ফরিদের পরিবার ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
রেশমির বড় ভাই বলেন, বোনকে যৌতুক দিয়ে বিয়ে দিয়েছি। আবার দুই লাখ টাকা চেয়েছে ফরিদের পরিবার। টাকা না দেয়ায় বোনকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে। বোনের শরীরে অনেক মারধরের দাগ আছে। আমি আমার বোন হত্যার বিচার চাই।
পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খলিলুর রহমান বলেন, ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে রেশমির মরদেহ উদ্ধার করি। ময়নাতদন্তর জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে বলা যাবে রেশমির মৃত্যুর কারণ।
মো. ছগির হোসেন/এফএ/পিআর