ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল, দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

প্রকাশিত: ০৩:১০ পিএম, ০৫ জুলাই ২০১৭

গাইবান্ধা-ফুলছড়ি সড়কের সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের বোয়ালি গ্রামে বন্যায় ভেঙে যাওয়া একটি সেতুর পাশে তৈরি করা বাঁশের সাঁকো দিয়ে কোনোমতে কষ্ট করে চলাচল করছে মানুষ।

গত বছরের বন্যায় সেতুটি বিধ্বস্ত হলেও এখনও শুরু হয়নি নতুন সেতু নির্মাণের কাজ। ফলে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলে লক্ষাধিক মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই রাতে ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের সিংড়িয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে বোয়ালি গ্রামের ওই সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই পাশ ও নিচের মাটি ক্ষয়ে যাওয়ায় সেতুটি দক্ষিণ দিকে হেলে পড়ে।

এরপর চলাচলের সুবিধার্থে সেতুর দুই পাশে বালু ও মাটির বস্তা ফেলে চলাচলের জন্য সাময়িকভাবে উপযোগী করা হয়। কিন্তু ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি।

গত ২০ জুন সেতুটি বেশি পরিমাণে দক্ষিণ দিকে হেলে পড়লে ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়। পরে সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ মোল্লা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি বোয়ালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এম মাজেদ উদ্দিন খানকে ওই সেতু স্থানে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে বলেন। পরে এ এম মাজেদ উদ্দিন খান শ্রমিক দিয়ে গত ঈদের আগেই সেতুটির পাশে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশের সাঁকো পারাপারের সময় রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশার চালকরা যাত্রী নামিয়ে দেন। পরে তারা হেঁটে পার হন। সাঁকোটির প্রস্থ কম হওয়ায় রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা দুই পাশের খুঁটিতে আটকে গিয়ে চালকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সেতুর ওপর দিয়ে মানুষ ও রিকশা-ভ্যান চলাচল করলেও ভারী কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।

ফুলছড়ি উপজেলা সদরের ব্যবসায়ী মজিদ মিয়া বলেন, ফুলছড়ি থেকে বোর্ডবাজার হয়ে গাইবান্ধা শহরে খুব অল্প সময়েই চলাচল করা যায়। ফলে এই সড়কটিতে সবসময়ই বিভিন্ন যানবাহনের ভিড় থাকতো। আগে এই পথে ব্যবসায়িক মালামাল পরিবহনে ব্যয় কম হতো। এখন বেশি এলাকা ঘুরে মালামাল পরিবহনে ব্যয় বেড়েছে। এর আগে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের সময় ব্যবসায়িক মালামাল পানিতে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

বুড়াইল মডেল স্কুল ও কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রুহুল আমিন বলেন, স্কুলগামী ছোট ছেলেমেয়েদের চলাচলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তখন তাদের হাত ধরে বাঁশের সাঁকোটি পার করে দিতে হয়।

এই পথে চলাচলকারী অটোরিকশাচালক জামিল মিয়া বলেন, আমি এই পথে প্রতিদিনই গাইবান্ধা শহর থেকে ফুলছড়ি উপজেলা সদরে চলাচল করি। বর্তমানে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অন্ধকার রাতে চলাচলে দুর্ঘটনা ঘটছে।

বোয়ালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ এম মাজেদ উদ্দিন খান আব্দুল্লাহ বলেন, নতুন সেতু নির্মাণে এলজিইডিকে জানানো হয়েছে। উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর নির্দেশে মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে সেতু স্থানের পাশে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে।

গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাকসুদুল আলম বলেন, একটি নতুন সেতু নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে ওই সেতুটির কাজ শুরু হবে বলে আশা করছি।

এএম/এমএস