ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

পূর্ণাঙ্গ কমিটি চান শরীয়তপুর আ.লীগের নেতাকর্মীরা

প্রকাশিত: ০৩:০৯ এএম, ০৬ জুলাই ২০১৭

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগকে চাঙ্গা করতে জরুরি ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সর্বস্থরের নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। বেশিরভাগ দিনই জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় অফিস তালা বদ্ধ থাকে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। তাও দীর্ঘ ১৪ বছর পরে। ওই ত্রিবার্ষিক সম্মেলন থেকে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক এ দুই পদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে ছাবেদুর রহমান খোকা শিকদার ও পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন অনল কুমার দে।

এর পর পেরিয়ে গেছে দেড় বছর। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। এ অবস্থায় দলীয় কার্যালয় বেশিরভাগ সময়ই তালা দেয়া থাকে। নেই দলীয় কোনো কার্যক্রম ও সাংগঠনিক তৎপরতা। একে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই, তার উপর কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।

পদ প্রত্যাশীদের অভিযোগ সবাইকে নিয়ে কাজ করার মানসিকতা রাখেন না তারা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় বিরুপ প্রভাব পরেছে শরীয়তপুর ছয়টি উপজেলাতেও। তৃণমূল থেকে কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে দলকে শক্তিশালী করার পরামর্শ দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাকর্মীরা। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কিছু কিছু কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা মারা যাওয়া বা বহিষ্কারের পর ওসব কমিটির কাজ চলছে ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে।
এতে করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের অনেকেই।

শরীয়তপুর পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ মজলিস খান বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়নি এখন পর্যন্ত। শুনেছি জেলা পরিষদ নির্বাচনের পর নাকি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হবে। জেলা পরিষদ নির্বাচন গেল তাও কমিটি দিচ্ছে না।

ডামুড্যা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জেলায় যারা নেতৃত্বে আছেন তাদের মধ্যে আমরা সকলকে নিয়ে কাজ করার মন মানসিকতা দেখতে পারছি না।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর মুন্সী বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের দেড় বছর পার হয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হয়নি। তার কারণে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। আমরা চাই অতি দ্রুত শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হোক।

জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জেলা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ কোতোয়াল বলেন, আগামী নির্বাচনের স্বার্থে অতি দ্রুত একটি নতুন কমিটি দেয়া হোক। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে জেলার যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের নিয়ে একটি নতুন কমিটি দেবে এ আশা করছি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং জেলায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেন যারা তাদের সকলের সঙ্গে কথা বলেছি। কথা বলে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া অনেকটা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছি।

জেলা পরিষদ চেযারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনসহ নানা কারণে আমরা আমাদের সাংগঠনিক কাজ করার সুযোগ পাইনি।

ছগির হোসেন/আরএআর/পিআর