ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সংগ্রামী জীবন কলেজছাত্র শাকিলের

প্রকাশিত: ০৩:৩৫ পিএম, ০৯ জুলাই ২০১৭

নাম শাকিল হোসেন। যখন সবাই বই-খাতা নিয়ে স্কুল-কলেজে যায় শাকিল তখন হোটেলের থালা-বাসন ধোয়ার কাজ করেন। কাজ করেন সাতক্ষীরা শহরের পানসি রেস্তোরাঁ হোটেলে। তাকে দেখে বোঝার উপায় নেই ছেলেটি মেধাবী এবং কলেজ ছাত্র। হোটেলে কাজ করেই নিজের খাওয়ার টাকা জোগাড় করে আবার সেই টাকা দেন পরিবারকে। সাংবাদিক যেন তার বিরক্তি। কথা বলতে চান না, ছবিও তুলতে চান না। টানা ছয়দিন চেষ্টার পর জাগো নিউজের সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয় শাকিলের।

শাকিল হোসেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকা বৈকারঝুটি গ্রামের দিনমজুর আতিয়ার রহমান গাজীর ছেলে।

জাগো নিউজকে শাকিল জানান, জন্ম ২০০০ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর। আমরা গরিব মানুষ। বাবা দিনমজুর। মা রাশিদা খাতুন গৃহিণী। আমার ছবি নিয়ে কি করবেন আর জেনে কি করবেন আপনারা। ছোটবেলা থেকেই কষ্ট করছি। দিনে কাজ করি রাতে লেখাপড়া করি। এভাবেই চম্পাফুল হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেছি। গ্রেড ৩.৮৬। কিছুদিন আগে মানবিক শাখায় ভর্তি হয়েছি আশাশুনি সরকারি কলেজে। ভর্তি রোল ৩২১৫। কাজ না করলে খাব কি। বাবা একা সংসার চালাতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বড় ভাই আলতাফ গাজী বিয়ে করে ভাবিকে নিয়ে ঢাকায় থাকেন। যোগাযোগটাও অনেক কম। ছোট বোন রুপা খাতুন বৈকারঝুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।

সাংবাদিকের প্রতি বিরক্তির কারণ হিসেবে শাকিল সাবলীল ভাষায় বলেন, যতগুলো দেখেছি একটাও ভালো না। এজন্যই আপনাকে দেখলেই আর সামনে আসতে ইচ্ছে করে না। কি আবার বিপদে ফেলে দেন ঠিক নেই। অনেকটা দুঃখের সঙ্গে কথাগুলো বলেন শাকিল।

আলাপকালে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হোটেলের এক কর্মচারী আব্দুর রউফ বলেন, শাকিল ভালো ছেলে। শান্ত স্বভাবের। কাজ করে আবার কলেজে পড়ে। নতুন ভর্তি হয়েছে। ভর্তির পর দুদিন গেছে মাত্র আর যেতে পারেনি।

হোটেল মালিক জিএম ফাত্তা জাগো নিউজকে বলেন, অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম শাকিল। মেধাবী ছেলেটি। গরিব পরিবার। আমার এখানে কাজ করে আমি মাসে তাকে ৫শ টাকা করে বেশি দেই।

হোটেলে থালা-বাসন ধোয়া ও পানি সরবরাহকারী শাকিল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখানে কাজ করে মাসে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পাই। মালিক ৫শ টাকা বেশি দেন আমাকে। এসব টাকা দিয়ে নিজের লেখাপড়া, খাওয়া, জামাকাপড় কেনা ও বাকি টাকা বাবাকে দিয়ে দেই। হোটেল থেকে মাসে ১০ দিন ছুটি নিয়ে যাই গ্রামের বাড়িতে।’

কারও কাছে কোনো সহযোগিতা চান কিনা? এমন প্রশ্নে শাকিল জানান, না কারও কাছে সহযোগিতা চাই না। নিজে পরিশ্রম করে লেখাপড়া শিখতে চাই। লেখাপড়া শিখে সরকারি চাকরি করব।

আকরামুল ইসলাম/এমএএস/জেআইএম