ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

লক্ষ্মীপুরের সেই চেয়ারম্যানকে ভর্ৎসনা করলেন হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ০২:২৮ পিএম, ১০ জুলাই ২০১৭

লক্ষ্মীপুরে মাটিকাটার শ্রমিক নূরুল আমিনকে (৫২) গ্রাম্য সালিশে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত ও নাকে খত দিতে বাধ্য করার আলোচিত ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত বলে হাইকোর্ট রায় দিয়েছেন। একই সঙ্গে সেই চেয়ারম্যানকে ভৎসনা করলেন হাইকোর্ট

এ সময় স্বরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে এ রায়ের কপি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে নির্দেশনা হিসেবে পাঠাতে বলা হয়।

এতে আইনকে নিজের হাতে তুলে না নিতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। সোমবার সকাল ১১টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও এ কে এম শহিদুল হকের বেঞ্চে জনস্বার্থে করা এক রিটে এ আদেশ দেন।

এ সময় আদালতে সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আহসানুল কবির রিপন হাজির ছিলেন। এর আগে গত ৩ ও ৯ জুলাই ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।

রিটকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাছেব হোসাইন বলেন, পত্রিকার প্রতিবেদন, আদালতে রিট, পুলিশের মামলা দায়ের ও চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত রায় দিয়েছেন।

এ জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে ভৎসনা করা হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে স্বরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে এ রায়ের কপি জনপ্রতিনিধিদের কাছে নির্দেশনা হিসেবে পাঠাতে বলা হয়। এর আগে রোবার (০৯ জুলাই) যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় লক্ষ্মীপুরের এসপি ও চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের ওসিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

ওই আইনজীবী আরও বলেন, গ্রাম্য সালিশে বেত্রাঘাত ও নাকে খত দিতে বাধ্য করার ঘটনায় ইতোমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৭ ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা ও আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। এ কারণে লক্ষ্মীপুর আদালতে অভিযোগের বিচার হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাছেব হোসাইনের করা জনস্বার্থে রিট মামলার প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিশ্বদেব চক্রবর্তীর দ্বৈত অবকাশকালীন বেঞ্চ তাদের বিরুদ্ধে এ রুল জারি করে।

এ নিয়ে গত ১৮ জুন জাগো নিউজে ‘এ কেমন বিচার!’ শিরোনামসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সংবাদটি জনস্বার্থে আদালতের নজরে এনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. তাছেব হোসাইনের রিট আবেদন করেন।

শুনানি শেষে আদালত ইউপি চেয়ারম্যান, ওসি স্ব-শরীরের হাজিরের নির্দেশ এবং এসপিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়।

কাজল কায়েস/এএম/এমএস

আরও পড়ুন