ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাগেরহাটে একাধিক সরকারি কর্মকর্তাকে হুমকি

জেলা প্রতিনিধি | বাগেরহাট | প্রকাশিত: ০৬:১১ এএম, ১৫ জুলাই ২০১৭

নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (জনযুদ্ধ) পরিচয় দিয়ে বাগেরহাট জেলা সদরের এলজিইডি, চিতলমারী ও মোল্লাহাট উপজেলার বিভিন্ন  সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে।

তবে জেলা পুলিশ বলছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এরইমধ্যে হুমকিদাতার অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

চরমপন্থীদের নিকট থেকে মোবাইল ফোনে হুমকি পেয়ে ইতোমধ্যে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলা শিক্ষা অফিসার  কামাল হোসেন, শিক্ষা অফিসের হেড ক্লার্ক মো. সেলিম হোসে, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী শওকত হোসেন ও এইক অফিসের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা এনামুল হক মোল্লাহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে বাগেরহাট এলজিইডি অফিসের ৫ জন ও চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক কর্মকর্তাকে একই ধরনের মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়েছে চরমপন্থী পরিচয়দানকারীরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বুধ ও বৃহস্পতিবার চরমপন্থী সংগঠন‘জনযুদ্ধের পরিচয় দিয়ে বাগেরহাট এলজিইডি অফিসের ৫ জন, মোল্লাহাট শিক্ষা অফিসের দুই জন, এলজিইডি অফিসের দুইজন ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা এবং চিতলমারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে জনযুদ্ধের নেতা হাতকাটা বিপ্লব পরিচয় দিয়ে বিভন্ন মোবাইল ফোন থেকে চাঁদা দাবি করা হয়। 

‘চাঁদাদাবিকারী ও হুমকিদাতারা জানায় গোলাগুলিতে তাদের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দেশের বাইরে তাদের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা দরকার।’ 

হুমকির শিকার বাগেরহাট এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. গোলাম রাব্বানী জানান, চরমপন্থী জনযুদ্ধের ‘বিল্পব বাহিনীর’ পরিচয় দিয়ে বৃস্পতিবার বিকেলে থেকে তিন দফায় তার কাছে মোবাইল করে চাঁদা দাবি করা হয়। প্রথম দফায় ২০ লাখ টাকা দাবি করে হুমকিদাতা। 

টাকা না পেলে ওই কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকিসহ স্ত্রী ও সন্তানদেরকে মেরে ফেলা হবে বলেন জানায়। পরে এলজিইডির ওই কর্মকর্তা ২০ লাখ টাকা দিতে অপারগতা জানালে চরমপন্থীরা ১০ হাজার টাকা চাদা দাবি করে। এক পর্যায়ে সরকারি ওই কর্মকর্তা হুমকির মুখে তাকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে রাজি হলে একটি বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠাতে বলে চরমপন্থী নামধারী বিপ্লব। 

একইভাবে এলজিইডি অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাহিদ আলম ভূঁইয়া হিসাব রক্ষক আব্দুল ওহাব, হিসাব সহকারী মো. আলম এবং ল্যাব টেকনিশিয়ান মো.আসাদুল হকের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। তবে এঘটনায় বাগেরহাট মডেল থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি তারা।

এ বিষয়ে মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনম খায়রুল আনাম জানান, বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনে মোল্লাহাট উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রানী সম্পদ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সহকারী প্রকৌশলীসহ দুই কর্মচারীকে মোবাইল ফোনে চরমপন্থীরা মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে হুমকি দিয়েছে। 

ওসি আরও জানান, চরমপন্থী বলে ইতিপূর্বে যারা ছিল এখন তাদের কর্মকাণ্ড নেই বললেই চলে।একটি চক্র ঢাকা থেকে একাধিক মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা কর্মাচারীদের নিকট চাদা দাবি করছে। এ ঘটনায় আতংকিত হবার কিছু নেই। মোবাইল ট্রাকিং করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। 

অপরদিকে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোজাফ্ফর উদ্দিন, ৩ জন এটিইও বাসুদেব বিশ্বাস, শংকর বিশ্বাস ও ললন বিশ্বাসের কাছে একই ধরনের হুমকি দিয়ে চরমপন্থীরা ফোনে চাঁদা দাবি করেছে। 

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান এ ধরনের হুমিকির কথা তিনি শুনেছেন তবে এখনও পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা ভূমি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার পারভেজ জানান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মোজাফ্ফর উদ্দিন তাকে বৃহস্পতিবার  চরমপন্থীদের নিকট থেকে চাঁদা ও হুমকির বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে রোববার অফিস খুললে তাকে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। 

এ ব্যাপারে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় জানান, কয়েক দিন ধরে বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে মোবাইল ফোন করে চরমপন্থী জনযুদ্ধের পরিচয় দিয়ে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। ওই হুমকিতে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। 

এক সময়ের চরমপন্থী অধ্যুষিত দক্ষিণাঞ্চলে বর্তমানে চরমপন্থীদের কোনো ধরনের কার্যক্রম নেই দাবি করে তিনি আরো জানান, হুমকির খবর পেয়ে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাক করে হুমকিদাতার অবস্থান মোটামুটি জানতে পেরেছে। মিথ্যা নাম পরিচয় ব্যবহার করে মস্তিস্ক বিকৃত এক ধরনের মানুষ ওই হুমকি দিয়েছে। পুলিশ তাকে ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছে। 

শওকত কালী বাবু/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন