ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে দেড়গুণ বেশি কারাবন্দী

প্রকাশিত: ০২:৩২ এএম, ২৭ মে ২০১৫

গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় দেড়গুণ বেশি কারাবন্দী থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ হাজতিসহ অন্যান্য কয়েদীদের। একজন কয়েদীর জন্য ৬ বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ থাকলেও সেখানে ৩-৪ জনকে থাকতে হচ্ছে। ফলে প্রচণ্ড গরমে ওই সব কয়েদীদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। এমনকি কারাসেলের স্পেস ভাড়া, সাক্ষাত প্রার্থীদের টাকার বিনিময়ে সাক্ষাত, খাবারের বরাদ্দ কম দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কারাগারে।

গোপালগঞ্জ কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ কারাগারের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ৩শ ৪৮ জনের। বর্তমানে সেখানে কারাবন্দী আছে ৫’শ ২৩ জন। এর মধ্যে কয়েদীর সংখ্যা ১’শ ৫ জন এবং হাজতির সংখ্যা ৪’শ ১৮ জন। কয়েদীদের মধ্যে পুরুষ ১’শ ২ জন ও নারী ১ জন এবং হাজতিদের মধ্যে পুরুষ ৪’শ ২ জন ও নারী ১৮ জন।

কারাগারে বন্দীদের থাকার জন্য ৩টি দ্বিতল ভবন রয়েছে। এর মধ্যে ২টি ভবনে বন্দীরা থাকে এবং একটি ভবন বন্ধ রয়েছে। প্রতিটি ভবনে ৪টি করে ওয়ার্ড রয়েছে এবং প্রতি ওয়ার্ডে সিট আছে ২২টি। অথচ প্রতি ওয়ার্ডে বন্দী থাকে ৫০-৬০ জন। জনবল সংকটের কারণে বন্ধ ভবনটিতে বন্দী রাখা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে । এছাড়া কারাগারে সেল আছে ১০টি। এর মধ্যে ৫টি সেলে ভিআইপি বন্দীদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। অপর ৫টি সেল সব সময় অগ্রীম বুকিং করা থাকে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কারাগারের ওয়ার্ড ও সেলগুলো সব সময় কনভিক্ট ওভার সিয়ার (সিও) বা ম্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। মাসিক চুক্তিতে কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সিওরা বন্ধ থাকা ভবন ও সেলের স্পেস কিনে নেন। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দর দাতারা এ কাজ পান। পরবর্তীতে সর্বনিম্ন জন প্রতি ১৫শ থেকে ৩ হাজার টাকার মাসিক চুক্তিতে কারাবন্দীদের কাছে স্পেস বিক্রি করা হয়।

এমনকি সাক্ষাত প্রার্থীদের টাকার বিনিময়ে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়। অফিস কলে সাক্ষাত করতে ৫শ থেকে ১হাজার টাকা লাগে। এছাড়া সাধারণ সাক্ষাতে নেওয়া হয় জন প্রতি ১০ টাকা করে। জেল কোড লঙ্ঘন করে এসব অর্থ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

খাবারের ক্ষেত্রে বন্দী প্রতি মাথাপিছু বরাদ্দ কমিয়ে খাবার তৈরি করা হয়। এতে খাবারের পরিমাণ ও মান রক্ষা হয় না। ফলে তারা ক্যান্টিন থেকে নগদ টাকায় খাবার কিনে খেতে বাধ্য হয়।

কারাগারে ২৫ শয্যার জেল হাসপাতালের অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালটি চালু হয়নি। কোন ডাক্তার বা নার্সকে পদায়ন করা হয়নি। একজন ডিপ্লোমা নার্স দিয়ে চলছে কারাবন্ধীদের চিকিৎসা সেবা। সরকার মনোনীত একজন  মেডিকেল অফিসার এখানে রোগী সেবা দেওয়ার দায়িত্বে থাকলেও তিনিও অনিয়মিত। কোন কারাবন্দী অসুস্থ্ হয়ে পড়লে তাত্ক্ষণিক জরুরি কোনো চিকাৎসার সুযোগ নেই। তবে প্রয়োজনে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। কারাগারের মধ্যে মাদক সেবন ও অনুপ্রবেশের অভিযোগ থাকলেও বিষয়টি সর্ম্পকে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে মুকসুদপুর উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের জামাল মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, একটি মাদকের মামলায় আসামি হয়ে তিনি কারা হাজতে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জামিন বেরিয়ে এসেছেন। ওই মামলায় তাকে দুই মাসের মতো কারাগারে থাকতে হয়। কারাগারে প্রথম রাতে থাকে অভ্যর্থনা (আমদানি ওয়ার্ড) রুমে রাখা হয়। সেখানে তাকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। পরে ৩ হাজার টাকায় মাসিক চুক্তিতে সিও (ম্যাড) সেলে থাকার ব্যবস্থা করেন।

তিনি বলেন, কারাগারে গরীব ও সাধারণ বন্দীরা খুবই খারাপ অবস্থায় থাকেন। তাদের  শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। আর যাদের টাকা আছে তারা ভাল থাকেন।

গোপালগঞ্জ শহরের মধ্যপাড়ার কাজল শেখ জানান, তিনি কারাগারে থেকে মাদক সেবন করতে দেখেছেন। বিভিন্ন সময় কর্তৃৃপক্ষের নজর এড়িয়ে কারা অভ্যন্তরে গাঁজা, ফেনসিডিল ও মদসহ বিভিন্ন মাদকের ব্যবহার হয়।

জেলা কারাগারের জেলার দেব দুলাল উল্লেখিত অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, জেল কোড অনুযায়ী কারগার পরিচালিত হচ্ছে। কোন অনিয়ম বা মাদক ব্যবহারের ঘটনা কারাগারে নেই। কয়েদী-হাজতিরা ঠিকভাবেই থাকছেন। সমস্যা থাকলে তা আমরা দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করি। এখানে দুই মাস আগে স্থানীয় কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে কারাবন্দীদের জন্য সাইকোথেরাপি কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে অপরাধ প্রবণ মানসিকতা দূরকরণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবন বিকাশের চিন্তা-চেতনাকে প্রসারিত করা হচ্ছে। যাতে তারা কারাভোগ শেষে মুক্ত হয়ে সমাজে পুনর্বাসিত ও কর্মযোগ্যতা লাভে সক্ষম হতে পারে।

জেল সুপার মো. গোলাম হোসেন বলেন, জেলা কারগারটি সঠিকভাবেই চলছে। জনবল সংকট থাকলেও কোন সমস্য হচ্ছে না। তবে জনবল সংকট দূরীকরণ ও জেলা হাসপাতালটি চালু হলে কারাগারের আরো উন্নয়ন ঘটবে।

এসএস/এমএস