ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কক্সবাজার কারাগারে মনজু শেখের রহস্যজনক মৃত্যু

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৪:১৮ পিএম, ০৭ আগস্ট ২০১৭

ইয়াবাসহ আটকের পর মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মনজুর ইসলাম ওরফে মনজু শেখ (৫৮) নামে এক ব্যক্তিকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

আটকের পর গত ২৯ জুলাই রাতে তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ৩০ জুলাই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২ আগস্ট রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে তাকে অসুস্থ দেখিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে।

সেখানে গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ওদিন বিকেলে তাকে সুস্থতার ছাড়পত্রসহ নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারে। সেখানে সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করে আবার অসুস্থ হলে রাত সাড়ে ৯টায় তাকে নেয়া হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। সেখানে তিনি মারা যান। সোমবার দুপুরে এমনটি জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা কারাগারের জেলার শাহাদাত হোসেন।

কিন্তু কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহীন আবদুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মনজু শেখ মারা যান। সোমবার কোনো চিকিৎসা দেয়ার প্রয়োজন হয়নি। তার মরদেহ সোজা নিয়ে যাওয়া হয় মর্গে।

কারা কর্তৃপক্ষ ও মামলার সূত্র মতে, মনজুর ইসলাম ওরফে মনজু শেখ মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান উপজেলার মালকা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। তার বাবার নাম মৃত শেখ বাদশা মিয়া।

কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে সদর থানায় ৩০ জুলাই দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পুলিশ ২৯ জুলাই মেরিন ড্রাইভ সড়কের কোয়ালিটি শ্রীম্প প্রজেক্ট এলাকায় মাদক উদ্ধারে যান বাহন তল্লাশি করছিল।

এ সময় একটি সিএনজি থেকে নেমে মনজুর ইসলাম ও আবদুর রশিদ নামের দুইজন দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করে। ধাওয়া দিয়ে তাদের ধরে রশিদের কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ পিস ও মনজু শেখের কাছ থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

এ সময় পালাতে গিয়ে ও পরে ধস্তাধস্তিতে পায়ে আঘাত পান মনজু শেখ। তার নামে টেকনাফ থানায় ২০১৪ সালের অপর একটি মাদক মামলাও রয়েছে।

সোমবার বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টরা মনজু শেখের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন।

দায়িত্ব পালন করা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মৃতের শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন রয়েছে। বাম হাতটি ব্যান্ডেজ মোড়ানো। তবে, কীভাবে তা হয়েছে এটি ডাক্তাররা ভালো বলতে পারবেন।

কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সময় সদর থানার এসআই নাজির হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনিও হাতে-পায়ে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

মামলার আরজিতে পায়ে আঘাতের কথা বলা হলেও বাম হাতে ব্যান্ডেজের কারণ কী? এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, এটি কারা কর্তৃপক্ষ বা চিকিৎসকরা বলতে পারেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহীন আবদুর রহমান বলেন, গত ২ আগস্ট প্রথম যখন তাকে হাসপাতালে আনা হলে তাকে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের আওতায় ভর্তি করা হয়। তখন তার বাম হাতে জখম পাওয়ায় ব্যান্ডেজ দেয়া হয়। তার শরীরে জখম ছাড়াও পায়ে, উরু ও উরুর উপরের চামড়া উঠে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে, তবে কী কারণে মারা গেছে এখন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/এমএস