ধীরে ধীরে ধসে পড়ছে ডিগনিটি টেক্সটাইল ভবন
ফাইল ছবি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ডিগনিটি টেক্সটাইল মিল ভবনের কয়েকটি তলা ধসে পড়েছে। রোববার দুপুর ২টার দিকে লাগা আগুন সোমবার সকাল ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নেভেনি। এর ফলে ১৯ ঘণ্টায়ও ওই কারখানার আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ রোববার রাতেই তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। সোমবার সকালেও ওই কারখানার দু`তলায় আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান লিটন জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, স্টিলের তৈরি ওই ভবনটি আগুনে গরম হয়ে যাওয়ায় এবং পানি পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে বিঘ্ন ঘটছে। সাত তলা ওই কারখানা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ঢাকা, জয়দেবপুর, শ্রীপুর, ঢাকা সদর দফতর এবং ময়মনসিংহের ভালুকা স্টেশনের ১৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেও আগুন নেভাতে পারেননি।
সোমবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান লিটন বলেন, রাত ২টার দিকে কারখানা ভবনের বাইরের দিকের স্টিলের পাত খুলে পড়তে শুরু করে। সকাল ৯টা পর্যন্ত সাত তলা ওই ভবনের তিন তলা পর্যন্ত ধসে পড়েছে। এ কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করছেন। এই ধরনের ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা তাদের নেই বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
তিনি জানান, আগুনের উত্তাপে ভবনের স্টিলের ফ্রেম দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আগেই আশপাশের বাড়ি থেকে লোকজনকে সরে যেতে বলা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও হতাহতের বিষয়ে কোনো ঘটনা ঘটেনি।
কারখানার ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) নাজমুন্নাহার জাগো নিউজকে বলেন, আগুনে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে।
রোববার দুপুর ২টার দিকে স্টিলের কাঠামোর উপর নির্মিত বিশাল আকৃতির ৭তলা কারখানা ভবনের তৃতীয় তলার গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ভবনের পাঁচ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। কারখানা ভবনে পর্যাপ্ত দরজা-জানালা না থাকায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ভবনের ভেতরে পানি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান রোববার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। যাদের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হোসেন জাগো নিউজকে জানান, সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাদেকুর রহমানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যরা হলেন, শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদুল ইসলাম, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মকর্তা, বিজিএমইএর একজন প্রতিনিধি ও কল-কারখানা পরিদর্শক।
মো. আমিনুল ইসলাম/এমজেড/এমএস