ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

কিস্তি দিতে না পারায় কটূক্তি, গৃহবধূর আত্মহত্যা

জেলা প্রতিনিধি | চুয়াডাঙ্গা | প্রকাশিত: ০৯:২৭ এএম, ০৯ আগস্ট ২০১৭

চুয়াডাঙ্গায় ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় এনজিও প্রতিনিধিদের কটূক্তি-লাঞ্ছনা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন শিউলি খাতুন নামে এক গৃহবধূ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজারের নিজবাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত গৃহবধূ শিউলী সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ বাজার এলাকার ইসরাইল হোসেনের স্ত্রী।

নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, শিউলীর স্বামী দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মালেয়শিয়া প্রবাসী। সম্প্রতি তিনি প্রবাসে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তাকে সুস্থ করতে স্ত্রী শিউলী খাতুন স্থানীয় বেশ কয়েকটি এনজিও থেকে টাকা উত্তোলন করে (ঋণ নিয়ে) স্বামীর চিকিৎসার জন্য মালেয়শিয়ায় পাঠান।

শিউলী খাতুনের ছেলে লাভলু জানায়, বাবা কিস্তির টাকা না পাঠানোয় গত মাসে এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় মা। এনিয়ে এনজিও দুটির মাঠ কর্মীরা বাসায় এসে মাকে গালিগালাজসহ নানা ধরনের কটূক্তি করে যায়। বিষয়টি নিয়ে মা মানুসিকভাবে ভেঙে পড়েন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে পুনরায় টিএমএসএস এনজিওর কর্মী বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ঘরের দরজায় লাথি মেরে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে নিজ ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না জড়িয়ে আত্মহত্যা করেন মা শিউলী খাতুন।

ঘটনাটি ওই এলাকায় জানাজানি হলে ক্ষোভ ছড়াতে থাকে সাধারণ মানুষের মাঝে। অনেকে টিএমএসএস এনজিওর কার্যালয়ে চড়াও হয়।

স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাড. আব্দুল মালেক এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এনজিওগুলোর সুদের ব্যবসার কারণে চুয়াডাঙ্গায় শুধু শিউলী নয়, তার মত অনেক নারী আত্মহত্যার মত কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। তিনি কটূক্তিকারী এনজিও কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোজাম্মেল হক জানান, ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সালাউদ্দিন কাজল/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন