ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভারত থেকে গরু আসলে ক্ষতির মুখে পড়বেন খামারিরা

জেলা প্রতিনিধি | ঝিনাইদহ | প্রকাশিত: ০৬:২৮ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৭

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ জেলার ৬টি উপজেলার হাজারো পরিবার গরু লালন-পালন করেছে। তবে শেষ মুহূর্তে ভারত থেকে ব্যাপকহারে গরু না আসলেই লাভের মুখ দেখবেন খামারিরা।

খামারিদের অভিযোগ, গত ৬ মাসে সবধরনের গো-খাদ্যের দাম দ্বিগুন বেড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে ব্যাপকহারে গরু আসতে থাকে।

cow

ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের বেজপাড়া গ্রমের গরু খামারি আহসানুল হক টিপু জানান, কোরবানি ঈদ আসন্ন। বাড়তি লাভের আশায় এবারের ঈদকে সামনে রেখে ঝিনাইদহের হাজারো খামারি গরু লালন-পালন করেছে। তবে তাদের মনে অজানা আতঙ্কও কাজ করছে। যদি শেষ সময়ে সীমান্ত দিয়ে বরাবরের ন্যায় ভারতীয় গরু ব্যাপকহারে আসতে থাকে তবে চরম লোকসানের মুখে পড়বেন গরু খামারিরা। কারণ এ বছর গো-খাদ্য যেমন- খড়, ছোলা, ঘাস, ভুসি এবং ওষুধের দাম চড়া। সে হিসেবে আগের তুলনায় গরু লালন-পালন খরচও বেড়েছে।

তিনি আরও জানান, ঝিনাইদহের গরু খামারিরা ক্ষতিকারক মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ছাড়া দেশীয় বিভিন্ন খাবারের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করে থাকেন।

cow

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলা কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, হরিণাকুন্ড, শৈলকূপা ও সদরে বিভিন্ন গ্রামে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দেশি গরুসহ বিভিন্ন উন্নত জাত। যেমন- ভারতীয় হরিয়ানা ও নেপালী জাতের গরু। প্রায় ৩০ হাজরেরও বেশি পরিবার গরু পালন করে হচ্ছেন স্বাবলম্বী। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে গরু পালনকারীর সংখ্যা।

হরিণাকুন্ড উপজেলার সবচেয়ে বড় গরু খামারি আদিল উদ্দিন জোয়ার্দার জানান, গরু পালন করে একদিকে যেমন নিজে লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে কিছু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন । ভারত থেকে গরু আসলে তারা নিঃস্ব হয়ে যাবেন।

cow

তিনি আরও জানান, এ সব গরু কোরবানির সময় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করা হয়। মোটাতাজাকরণের ভ্যাকসিন ছাড়া শুধুমাত্র দেশীয় খাবার খড়, ছোলা, ভুসির মাধ্যমে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়।

ঝিনাইদহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান জানান, গরু লালন-পালনে একদিকে যেমন মাংসের চাহিদা পূরণ হচ্ছে অন্যদিকে গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করে রান্নাসহ অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে পারছেন খামারিরা। আবার পরে ওই বিষ্ঠা জমিতে সার হিসাবে ব্যবহার করতে পারছেন।

তিনি আরও জানান, এবার কুরবানি ঈদের জন্য জেলায় ৫১ হাজার ৮৯৬টি গরু প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আহমেদ নাসিম আনসারী/আরএআর/জেআইএম