ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

তিস্তার পানির চুক্তির দাবিতে নীলফামারীতে বাসদের মানববন্ধন

প্রকাশিত: ০৯:১৯ এএম, ০৬ জুন ২০১৫

তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির নায্য হিস্যার দাবিতে শনিবার দুপুরে নীলফামারীতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী)। উভয় দেশের সরকার প্রধানদের মধ্যে তিস্তার চুক্তির আশায় বুক বাঁধছে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলার ৫০ লক্ষাধিক মানুষ। ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশ সফরে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান হবে। দেশের উত্তরাঞ্চল রক্ষায় তিস্তা চুক্তির বিষয়টি ভারত সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে।

উভয় দেশের সরকার প্রধানের তিস্তা চুক্তির বিষয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কারণে ঝুলে থাকলেও এবার মমতার আগমনে তিস্তা পাড়ের মানুষ আশায় বুক বেঁধেছে।

মানববন্ধন অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, শুষ্ক মৌসুমে গত ২৮ বছরে ভারত তিস্তার ৬৬ লাখ কিউসেক পানি কম দিয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার প্রতিদিন পানি প্রয়োজন কমপক্ষে ৩ হাজার কিউসেক। সেখানে পানি পাওয়া গেছে ২ থেকে ৫শ কিউসেক। প্রতি বছর জানুয়ারি মাস থেকে মার্চ মাসকে শুষ্ক মৌসুম ধরা হয়। শুষ্ক মৌসুমে এই পরিমাণ পানি কম দিয়েছে বাংলাদেশকে।

শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশ সফরে আসছেন। তিস্তা পাড়ের ৫০ লাখ মানুষ সাধুবাদ জানান তাদেরকে। তিস্তার পাড়ে চলছে আনন্দের জোয়ার, তিস্তার পাড়ে অর্ধকোটি মানুষের আশা ভারত সরকার উত্তরবঙ্গের কৃষি ও প্রাণি রক্ষায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি সুরাহা করবেন। উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলার কৃষকরা আশা করছেন এই সফরে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যার ব্যাপারে উভয় দেশের সরকার একটি সমঝোতায় পৌঁছবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, তিস্তা ব্যারেজের ৬৬ কিলোমিটার উজানে ভারত সরকার ১৯৮৭ সালে গজল ডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে। বাঁধ নির্মাণ করার ফলে তিস্তার স্বাভাবিক পানি প্রবাহ গতিরোধ করা হয়েছে। ফলে তিস্তা নদী ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়। গত ২৮ বছরে পানি পাওয়া যায় ৯ লাখ ৬০ হাজার কিউসেক পানি। ভারত সরকার একতরফা তিস্তার পানি প্রত্যাহার করার ফলে বাংলাদেশকে ৬৬ লাখ কিউসেক পানি কম দিয়েছে। অপরদিকে বর্ষা মৌসুমে গোজল ডোবা ব্যারেজে পানি আটকিয়ে রেখে সকল গেট একই সময় খুলে দিয়ে দু`কূল ভাসায় ভারত সরকার। এসময় পানি প্রবাহ থাকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ কিউসেক পর্যন্ত।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, তিস্তার পানি নিয়ে ২০০৫ সালে সর্বশেষ জেধারসির মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর ২০০৬ সালে মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হওয়ায় কথা থাকলেও ভারত সরকারের আগ্রহ না থাকার কারণে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়নি।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিস্তায় পানি না থাকায় তিস্তা ব্যারাজ সেচ নির্ভর ক্যানেল সংলগ্ন বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, রংপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বোরো ধানের জমিতে পানি সঙ্কটে কোনো সেচ দেয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে রংপুর-নীলফামারী অঞ্চলের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর পানি মারাত্মক হ্রাস পেয়েছে। তিস্তার বুক জুড়ে এখন বালুচর জেগে উঠেছে। পানির অভাবে ডালিয়া থেকে  ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত ১৫২ কিলোমিটার তিস্ত নদী বিস্তীর্ণ বালুচরে পরিণত হয়েছে।

তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী আসায় আমরা আশা করি তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে উভয় দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তি হবে। চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলে দেশের উত্তরাঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। উভয় দেশের সরকার প্রধানগণ বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেবেন।

এ উপলক্ষে নীলফামারী শহরের চৌরঙ্গি মোড়ে দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাসদের ডিমলা উপজেলা সমন্বয়ক কমরেড রবীন্দ্র নাথ রায়। বক্তব্য দেন বাসদ রংপুর জেলার সদস্য কমরেড আহসানুল আরেফিন তিতু, ডোমার উপজেলা সমন্বয়ক ইয়াসিন আদনান রাজীব, জলঢাকা উপজেলা সমন্বয়ক তরনী রায় প্রমুখ।

জাহেদুল ইসলাম/এমজেড/আরআই