নীলফামারীতে পেট কেটে দিনমজুরের আত্মহত্যা
প্রতীকী ছবি
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার দিনমজুর সিরাজুল ইসলাম (৬৫) পেট ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট সহ্য করতে না পেরে নিজেই নিজের পেট কেটে আত্মহত্যা করেছে।
এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে। নিহত সিরাজুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের উত্তর ভেড়ভেড়ি গ্রামের মৃত. আতিয়ার রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হলেও অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারেননি সিরাজুল। স্ত্রী আনোয়ারা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন।
রোববার বিকেলে পেটের ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট সহ্য করতে না পেরে নিজেই ব্লেড দিয়ে নিজের পেট কেটে ফেলেন, সঙ্গে সঙ্গে তার পেটের নারী ভুড়ি বের হয়ে আসে। এলাকাবাসী তাকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বলেন, টাকার অভাবে স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারি নাই। বেশ কিছুদিন ধরে পেটের ব্যথা ও শ্বাস কষ্ট। ঘটনার সময় আমি মানুষের বাসায় কাজ করতে গিয়েছিলাম।
পুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সায়েম বলেন, প্রায় এক বছর আগে জন্ডিসে আক্রান্ত হন সিরাজুল। তার পেটে পানি জমে পেটের আকার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায়। এ কারণে নিঃশ্বাস নিতেও দারুণ কষ্ট হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, পেটে পানি জমার কারণে পেটের ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট সহ্য করতে না পেরে সে হয়তো ভেবেছিল পেট কাটলে একটু স্বস্থি পাবে, এ আশায় সে নিজের পেট নিজেই কাটে।
জাহেদুল ইসলাম/এমএএস/আরআইপি