ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঝালকাঠির দুটি আসনে এমপি প্রার্থীর তালিকায় ৩২ জন

জেলা প্রতিনিধি | ঝালকাঠি | প্রকাশিত: ১০:৪২ এএম, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

চারটি উপজেলা নিয়ে ১৯৮৪ সালে মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয় ঝালকাঠি। চারটি উপজেলা দুটি আসনে বিভক্ত হয়। জেলা সদর ও নলছিটি নিয়ে ঝালকাঠি-২ এবং রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসন। 

জেলা গঠিত হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক পালা বদলে জাতীয় পার্টি ও বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়। ২০০০ সালে জাতীয় পার্টি নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর মৃত্যুতে উপ-নির্বাচনে ঝালকাঠি-২ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন বর্তমান আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমু। 

এখান থেকে প্রথমে জাতীয় পার্টি ও পরে বিএনপির দুর্গখ্যাত ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগ সংসদ নির্বাচনে আসন পেতে শুরু করে। বর্তমানে ঝালকাঠির দুটি আসনই আওয়ামী লীগের দখলে। 

আওয়ামী লীগ চাচ্ছে তাদের আসন ধরে রাখতে আর বিএনপি চাচ্ছে তাদের আসন পুনরুদ্ধার করতে। পাশাপাশি জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় পার্টি (জেপি) জোটের অন্যান্য শরিক দলের নেতারা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও অনেকে এমপি প্রার্থী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা।

ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) : আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক মিল্লাত হোসেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ জাতীয় পার্টির (জাপা, এরশাদ) কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক এমএ কুদ্দুস খান, জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন আনু এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ, ইনু) জেলা সভাপতি সুকমল ওঝা দোলনও জোটের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। 

এছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি, আসম আঃ রব) জেলা সাধারণ সম্পাদক সমীরণ হালদার সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান তিনি। 

বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সদস্য ও সাবেক এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা মনিরুল ইসলাম নূপুর, সিনিয়র সহ-সভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া, পাকিস্তান সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যারিস্টার আক্তার উদ্দিন আহমেদের মেয়ে ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য জেবা আহমেদ খান, কেন্দ্রীয় জিসাস নেতা নুরুল ইসলাম খান বাবুল, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা অ্যাডভোকেট রফিক হাওলাদার, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সভাপতি এম কামরুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম, আমেরিকা প্রবাসী বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম, বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক শেখ জামাল উদ্দিন। 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র জেলা সভাপতি ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী (নওমুসলিম) দলীয় হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করবেন। 

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) : এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান এমপি, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুল হক হারুন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ ইসমাইল, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এমএ হান্নান ফিরোজ। 

ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মো. শাহ আলম জানান, নির্বাচন সামনে রেখে দলের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি নতুন করে করা হচ্ছে। দলকে গতিশীল রাখার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নেই আমরা যাচ্ছি। খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত সবাই শিল্পমন্ত্রীর হাত ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছে। আগামী নির্বাচনেও আমরা আসন দুটি ধরে রাখতে পারব।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনির বলেন, আগের চেয়ে আমাদের দল এখন অনেক সুসংগঠিত। সাংগঠিনকভাবে আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতোমধ্যে শহর ও গ্রামাঞ্চলে যেখানেই সভা-সমাবেশ হচ্ছে, দলীয় নেতাকর্মীরা সেখানেই নৌকা প্রতীকে ভোট চাইছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নূপুর বলেন, বিএনপি তৃণমূলে এখনও অনেক শক্তিশালী। নির্বাচনকে সামনে রেখে যে যার মতো করে প্রস্তুতি নেয়ার জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বসন্তের কোকিলরা এসে মনোনয়ন চায়। তারা ঢাকায় বসে সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। আন্দোলন-সংগ্রামে তারা কোনো ভূমিকা রাখছে না।

আতিকুর রহমান/এমএএস/এমএস