কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ রুটে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ
গত ১০ দিনেও কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ রুটে ফেরি চলাচলের অচলাবস্থা কাটেনি। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম এ নৌ রুট দিয়ে যাতায়াত করতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পরীক্ষামূলকভাবে শুক্রবার থেকে আরও একটি নতুন চ্যানেল দিয়ে ফেরি চলাচল শুরু করা হয়েছে। এ কারণে পদ্মা নদী পারাপারে নৌ পথের দূরত্ব আরও বেড়েছে। আবার নতুন চ্যানেলটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় এবং ফেরি পারাপারে ওয়ান ওয়ে হওয়ায় একটি ফেরিকে আরেকটি ফেরির জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় পর্যন্ত নদীর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ঘাট এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ছে।
কাঁঠালবাড়ি ঘাট সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ও যাত্রীরা জানান, পরীক্ষামূলক ভাকে চালু করা নতুন চ্যানেলের মাঝ খানের একটি স্থান অত্যন্ত সরু হওয়ায় ফেরিগুলোকে ওয়ান ওয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময় ধরে একটি ফেরিকে অপর ফেরির আসা-যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগও বাড়ছে।

পদ্মা নদীতে অসংখ্যা ডুবোচরে ফেরি চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ফেরি চলাচল। তবে বিকল্প পথ হিসেবে দৌলদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ।
পদ্মায় দ্রুত পানি কমতে থাকায় কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌ রুটের নাব্য সঙ্কট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে বলে দাবী করে আসছে বিআইডব্লিউটিসি কত্তৃপক্ষ। আজ শুক্রবারও নৌরুটের ২০টি ফেরির মধ্যে ছোট মাত্র ৫টি ফেরি ছাড়া বাকিগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। আবার রাতের বেলা চলছে মাত্র ৪টি ফেরি। এ সকল ফেরি ধারণ ক্ষমতারও অর্ধেক পরিবহন নিয়ে ঘাট ছাড়ছে। এমনকি কোনো কোনো সময় শুধু যাত্রী নিয়েই ফেরি পদ্মা নদী পার হচ্ছে। এ কারণে পরিবহনের দীর্ঘ সারি ঘাটে থেকেই যাচ্ছে। ঘাট এলাকায় প্রায় ৩ শতাধিক যান আটকা পড়েছে।
যাত্রী, পরিবহন ড্রাইভারসহ দক্ষিণাঞ্চলবাসীর অভিযোগ, সারাবছর ড্রেজিং কার্যক্রম চললেও কেন নাব্য সঙ্কট কাটছে না। তারা দ্রুত নৌ রুট সচলের দাবি জানান।
কাঁঠালবাড়ি ঘাট বিআইডব্লিউটিএ’র ব্যবস্থাপক আবদুস সালাম মিয়া বলেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের থেকেও যাত্রীদের দুভোর্গ কমাতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আজ দুপুরের পর একটি রো রো ফেরি ও দুটি টানা ফেরি পরীক্ষামূলকভাবে একটি নতুন চ্যানেল দিয়ে পরিবহন বোঝাই করে কাঁঠালবাড়ি থেকে ছাড়া হয়েছে। এ ফেরিগুলো নতুন চ্যানেল দিয়ে ওয়ান ওয়ে সিস্টেমে পার হবে। তবে সঠিকভাবে নিদিষ্ট সময়ে ফেরিগুলো শিমুলিয়া ঘাটে যেতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত করে এখনো বলা যাচ্ছে না। তবে এই রুটে দিয়ে ৮৬টি লঞ্চ এবং প্রায় দুই শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করছে।
একে এম নাসিরুল হক/আরএআর/আইআই