ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

শুরু হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ডাটাবেজ তৈরির কাজ

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০১:২৩ পিএম, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মিয়ানমারে বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে বানের স্রোতের মতো ঢুকেছে আতঙ্কিত রোহিঙ্গারা। গত দুই সপ্তাহে নতুন করে ৩ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে পাহাড়-রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশে অবস্থান নিয়েছে।

পালিয়ে আসাদের মাঝে বিদেশে স্বজন থাকারা ভাড়া বাসায় অবস্থান নিয়ে নিজেদের মতোই অন্য সংস্থান করছেন। কিন্তু ক্যাম্প এলাকায় ও পাহাড়ের চূড়া এবং ঢালুতে অবস্থানকারীদের মাঝে চলছে খাবার ও পানীয় জলের জন্য হাহাকার।

মানবিক বিবেচনায় বিপদাপন্ন রোহিঙ্গাদের সহযোগিতায় ত্রাণ নিয়ে যে যার মতো সীমান্তে যাচ্ছেন। চলন্ত গাড়ি কিংবা অঘোষিত কোনো এক জায়গায় হঠাৎ ত্রাণ আসায় সবার মাঝে এসব সহায়তা পৌঁছাচ্ছে না। সেই সঙ্গে হাতে তোলা দানে ক্ষুধা নিবারণ না হওয়ায় অনেক রোহিঙ্গা খাবারের সন্ধানে লোকালয়েও বিচরণ শুরু করেছে।

ফলে মাত্রাতিরিক্ত রোহিঙ্গার অনিয়ন্ত্রিত বিচরণ রোধ করতে উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ছাড়া নতুন ও পুরাতন সবাইকে ডাটাবেজের আওতায় আনতে কাজ শুরু হচ্ছে রোববার।

পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণ নিয়ে সড়কে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ইচ্ছে মতো ত্রাণ সহায়তাও নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণে খোলা জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) খালেদ মাহমুদ শনিবার বিকেলে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এডিএম খালেদ মাহমুদ বলেন, অতিরিক্ত লোক সীমান্ত অতিক্রম করায় সবদিক সামলানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে আগত রোহিঙ্গাদের আঙুলের ছাপ ও ছবি সম্বলিত ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্তের পর কাজ শুরু করা হবে। এটি সম্ভব হলে রোহিঙ্গাদের জীবনমান নিয়ন্ত্রণে সার্বিক সহযোগিতা বেগবান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এডিএম আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের ৫ জন সহকারী কমিশনার দিয়ে টেকনাফ সড়কের কয়েক জায়গায় বিশেষ চেকপোস্ট করা হবে। তাদের কাজ হবে রোহিঙ্গা বিচরণ নিয়ন্ত্রণ করা। এ চেকপোস্ট ইচ্ছে মতো নিয়ে যাওয়া ত্রাণও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে বিতরণ করার উদ্যোগ নেবে। তবে, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের জন্য এ কাজ হঠাৎ করে করা একটু কষ্টসাধ্য হবে। তাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা সবার উচিত বলেও জানান তিনি।

সায়ীদ আলমগীর/এএম/জেআইএম