ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বখাটের উত্ত্যক্তে অতিষ্ঠ হয়ে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ১০:১১ এএম, ০৯ অক্টোবর ২০১৭

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় এক বখাটে যুবকের উত্ত্যক্তে অতিষ্ঠ হয়ে রাজিফা আকতার সাথী (১৪) নামে এক মেধাবী স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। রোববার রাতে উপজেলার জিয়ানগর গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে।

নিহত রাজিফা আকতার সাথী জিয়ানগর গ্রামের ক্ষুদে ব্যবসায়ী গোলাম রব্বানীর মেয়ে। সে স্থানীয় জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের এক নম্বর রোলধারী ছাত্রী ছিল।

নিহতের বাবা গোলাম রব্বানী জানান, বখাটে যুবক হুজাইফা ইয়ামিন (১৯) তার মেয়েকে পথে-ঘাটে উত্ত্যক্ত করত। এ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় একাধিকবার সালিশি বৈঠক করা হলেও ওই বখাটেকে নিবৃত্ত করা যায়নি।

তিনি বলেন, রোববার সাথী বাড়ি থেকে প্রায় ১০কিলোমিটার দূরে দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে প্রাইভেট পড়তে যায়। মেয়ে যখন বাড়ি ফিরছিল তখন রাস্তায় ওই বখাটে আবারও আমার মেয়ের পিছু নেয় এবং কটূক্তি করে। এতে আমার মেয়ে অপমান বোধ করে। তবে কাউকে কিছু না বলেই সে বাড়ি ফিরে আসে। আমি তখন জিয়ানগর বাজারেই ছিলাম। আমার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সাথী আমাকে বলেছিল “আব্বা আপনি তাড়াতাড়ি বাড়ি আসেন তো, আপনার সঙ্গে কথা আছে”। তখন আমি তাকে বলেছিলাম- ঠিক আছে মা তুমি যাও আমি আসছি।

স্কুলছাত্রী সাথীর নিকটাত্মীয় জিয়ানগর বাজারের মাছ ধরার জাল বিক্রেতা গোলাম রব্বানী জানান, সাথী বাড়ি ফিরেই নিজের ঘরে গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের তীরের সঙ্গে ঝুলে পড়ে। এতে সঙ্গে সঙ্গে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

জিয়ানগর গ্রামের বাসিন্দা নাসিমুজ্জামান রিফাত জানান, দুই ভাই বোনের মধ্যে ছোট সাথী খুবই মেধাবী ছাত্রী ছিল। সাথীকে তার বাবা দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদরে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে (ইংলিশ মিডিয়াম) ভর্তি করে দিয়েছিলেন। সেখান থেকে সে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (পি,এস,সি) জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। আর্থিক সংকটের কারণে পরে সাথীর বাবা আর মেয়েকে ওই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াতে পারেননি। পরে তাকে বাড়ির পাশে জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়।

জিয়ানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোত্তালেব গণি জানান, সাথী তাদের স্কুল থেকে ৮ম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষায় (জেএসসি) যথারীতি গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। পড়ালেখার প্রতি মেয়েটির খুব আগ্রহ ছিল। বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ে সে খুব ভাল নম্বর পেত এবং ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল ছিল। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কিছু পুরস্কারও পেয়েছে। ক্লাসেও তার রোল ছিল এক।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত হুজাইফা ইয়ামিন নামে বখাটে ওই যুবককে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ রোববার রাতেই পার্শ্ববর্তী হেরুঞ্জ গ্রামে অভিযান চালাতে গেলে গ্রামবাসী পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে তিন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।

অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা পুলিশের একটি ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে গভীর রাতে বগুড়া থেকে অতিরিক্ত পুলিশ দ্বিতীয় দফা ওই গ্রামে অভিযান চালিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ২৬ জনকে আটক করে। তবে বখাটে যুবককে গ্রেফতার করা যায়নি। ওই গ্রাম এখন পুরুষ শূন্য।

দুপচাঁচিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার খবর পেয়ে রাতেই তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। এরপর অভিযোগ পেয়ে বখাটে যুবককে গ্রেফতার করতে পাশের হেরুঞ্জ গ্রামে গেলে গ্রামবাসী পুলিশকে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তারা হামলা চালায়। এতে নাসিরুজ্জামান, রহিম উদ্দিন ও জাকির হোসেন নামে পুলিশের তিন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আহত হন। কয়েক ঘণ্টা পর অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে আবারও ওই গ্রামে অভিযান চালানো হয়।

তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় দু’টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীর বাবা গোলাম রব্বানী বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। অপরদিকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া এবং হামলার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে দ্বিতীয় মামলাটি করেছে।

ওসি আব্দুর রাজ্জাক এ ঘটনায় ২৬ জনকে প্রথমে আটকের কথা স্বীকার করলেও পুলিশের ওয়াকিটকি খোয়ানোর কথা অস্বীকার করেছেন।

আরএআর/আইআই