ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সিরাজগঞ্জে শিশু তামিম হত্যার অভিযোগপত্র দাখিল

জেলা প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ | প্রকাশিত: ১১:৫২ এএম, ১১ অক্টোবর ২০১৭

প্রায় ৮ মাস পর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার বহুল আলোচিত শিশু তামিম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লাপাড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজ রানা ৫ ব্যক্তিকে আসামি করে সিরাজগঞ্জ আমলি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এরা হলেন, উল্লাপাড়া উপজেলার নরসিংহপাড়া গ্রামের শুকুর আলী আকন্দের ছেলে আব্দুল মান্নান, আব্দুল মান্নান আকন্দের ছেলে ফিরোজ হোসেন, ইউসুফ আকন্দের ছেলে হাফিজুল ইসলাম, মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে বাহের আলী ও উল্লাপাড়ার চকপাঙ্গাসী গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে জহুরুল ইসলাম।

উল্লাপাড়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সবুজ রানা বুধবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চকপাঙ্গাসী গ্রামের সোলায়মান হোসেনের ৭ বছরের ছেলে তামিম নরসিংহপাড়া গ্রামের নানা রফিকুল ইসলামের বাড়িতে বেড়াতে যায়। ওইদিন বিকেলে তামিম পাশের দোকানে গেলে হাফিজুল তাকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী আব্দুল মান্নানের গোয়াল ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে রাতে মান্নান ও জহুরুল শিশুটির হাত ও পা ধরে রাখে এবং ফিরোজ ও হাফিজুল গলায় লাইনলের দড়ি পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পরদিন সকালে গ্রামের পাশের মাঠে সরিষার গাদার ভেতর থেকে পুলিশ তামিমের মরদেহ উদ্ধার করে। ১১ ফেব্রুয়ারি তামিমের বাবা সোলায়মান হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে উল্লাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে গ্রেফতার আসামিরা সিরাজগঞ্জ আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে ঘটানো এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিবরণ দেয়। ঘাতকদের এই টাকার যোগান দেন জহুরুল ইসলাম ও হাফিজুল ইসলাম।

তামিম হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সেসময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বাদীপক্ষ জাতীয় প্রেসক্লাবসহ উল্লাপাড়ায় কয়েকবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। গণমাধ্যমে এই খবরটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

তিনি আরও জানান, এ মামলায় ৫ ব্যক্তিকে আসামি করে অভিযোগপত্র মঙ্গলবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ আমলি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে মান্নান, ফিরোজ ও হাফিজুল জেলহাজতে রয়েছে। এ মামলায় জহুরুল ও বাহের আলী পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন