ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গোপালগঞ্জে বাড়ছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতারণা

প্রকাশিত: ০৬:২০ এএম, ২৫ জুন ২০১৫

গোপালগঞ্জে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা। আর এ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ অসংখ্য মানুষ।

দেশের বিভিন্ন স্থানের নাম বলে সংশিষ্ট এলাকার মানুষদের মরদেহ বাড়ি পাঠানো, এ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে রোগী পাঠানোর কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিং “বিকাশ” এর মাধ্যমে এই সব প্রতারণা করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, প্রতারক চক্রটি কখনও শিক্ষামন্ত্রীর একন্ত সচিব, কখনও জজ বা ডাক্তার সেজে মোবাইল ফোনে সড়ক দুর্ঘটনা, বাড়িতে মরদেহ পাঠানো, লটারিতে টাকা পাওয়া, হারানো ব্যক্তিকে বাড়ি পাঠানো, রোগীর চিকিৎসার পর ক্লিনিকের বিল মিটানোসহ নানান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে খরচ বাবদ “বিকাশ” একাউন্টের মাধ্যমে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা দাবি করে থাকে।

যাদের নামে এসব গল্প তৈরি করে তাদের আগে থেকেই নেটওয়ার্ক বা মোবাইল সার্ভিসিং এর কথা বলে এক ঘণ্টা ফোন বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকে। আর সেই সুযোগে তাদের আত্মীয় স্বজনদের কাছে বিপদের খবরটি পৌঁছে দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারণার শিকার হয়ে জেলার অসংখ্য মানুষ মৌখিকভাবে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

প্রতারণার শিকার টুঙ্গিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাকে একটি বাংলালিংক মোবাইল নাম্বার থেকে শিক্ষা মন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে ফোন দিয়ে বলে, আপনার এলাকা টুঙ্গিপাড়ার সিকদার বাড়ির একটি লোক আমাদের মন্ত্রণালয়ের সামনে গাড়ি চাপায় মারা গেছে। আমরা মরদেহটি অফিসের পাশে রেখেছি। আপনার এলাকার মরদেহ বিধায় ফোন করেছি। মরদেহ পাঠাতে ১০ হাজার টাকা এ্যাম্বুলেন্স ভাড়া লাগবে। আপনি ১০হাজার টাকা বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে পাঠান।

তখন আমি বলি মরদেহ পাঠিয়ে দেন আমি গাড়িয়ালাকে টাকা দিয়ে দিব। তখন ফেরি ভাড়া ও টোল বাবদ দুই হাজার টাকা লাগবে বলে জানায়। আমি সরল বিশ্বাসে ২ হাজার টাকা পাঠাই। এরপর ফোন করে মরদেহের খবর নেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সেখানে খবর নিয়ে জানা যায়, ওইদিন ওখানে কোন দুর্ঘটনা ঘটেনি।

এর ২০-২৫ দিন পর মাওয়া ঘাটে টুঙ্গিপাড়ার লোক মারা গেছে এমন খবর দিয়ে আমাকে ও পৌর মেয়র সরদার ইলিয়াস হোসেনের কাছে ফোন করে একই কায়দায় ১০ হাজার করে বিশ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। এর ২ মাস পর কিশোরগঞ্জের জজ পরিচয়ে আমাদের এলাকার একটি কাজের মেয়ে কাজ করতে গিয়ে মারা গেছে সেই মরদেহ পাঠানোর জন্য ১০ হাজার টাকা চায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি তাকে গালাগাল করি। তারপর এখন পর্যন্ত আর কেউ ফোন করেনি।

এই ঘটনা শুধু চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে নয়। একইভাবে প্রতারণার শিকার হয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বদরুল আলম বদর, জেলা শহরের আইডিয়াল একাডেমির শিক্ষক অনুপম ভক্ত, প্রহলাদ বিশ্বাস, কাশিয়ানী উপজেলার ধীরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সীমা সরকার, মুকসুদপুর উপজেলার ধর্ম রায়ের বাড়ি গ্রামের ব্যবসায়ী সঞ্জয় বিশ্বাস, সমীর রায়সহ অনেকে।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদেরকে বলেন, দেশের মধ্যে সহজ উপায়ে টাকা আদান প্রদান সকলেরই কাম্য। শুধু কোড নাম্বার বা মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় এক শ্রেণির অসাধু মানুষ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষদের ভুল বুঝিয়ে বা মিথ্যা কথা বলে প্রতারণা করছে। মোবাইল ব্যাংকিং বা বিকাশে টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে টাকা উত্তোলনকারী ব্যক্তিকে (জাতীয় পরিচয়পত্রসহ) সনাক্ত করা যায় এমন প্রমাণপত্র রেখে টাকা দেয়া বাধ্যতামূলক করলে এই ধরনের অপরাধ কমে আসবে।

এসএস/পিআর