ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সমস্যায় জর্জরিত উল্লাপাড়া সরকারি মৎস্য হ্যাচারি

জেলা প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৫:৩৭ এএম, ২৮ অক্টোবর ২০১৭

‘মাছে ভাতে বাঙালি’। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সরকারি মৎস্য হ্যাচারি কমপ্লেক্সটির বেহালদশা দেখে এ বাক্যের বাস্তবায়ন কঠিন বলে মনে করছেন মৎস্য চাষিরা। দীর্ঘদিন যাবৎ নানা সমস্যায় জর্জরিত হওয়ায় হ্যাচারিটিতে মৎস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দিনদিন বেড়েই চলছে হ্যাচারিটির সমস্যা।

আয়রনমুক্ত পানির অভাবে রেণুপোনা উৎপাদন ব্যাহত হলেও সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। এ হ্যাচারি পরিচালনায় উদাসীনতার সুযোগে বেসরকারি হ্যাচারিগুলো জমজমাট ব্যবসা করে আসছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৭৭ সালে উল্লাপাড়া সদরে মৎস্য অধিদফতরের আওতায় সরকারি মৎস্য হ্যাচারি কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ২৪ বিঘা। হ্যাচারিতে পুকুর রয়েছে মোট ১১টি। ১৪ জন কর্মচারীর পদ থাকলেও আছেন মাত্র ১০ জন। প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প সম্প্রসারণ কর্মকর্তার একমাত্র পদটিও দীর্ঘদিন যাবৎ শূন্য রয়েছে।

রেণুপোনা উৎপাদনের পুকুরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে এই হ্যাচারিতে। সরকারি এ হ্যাচারির মূল উদ্দ্যেশ্য বিভিন্ন জাতের মাছের গুণগতমানের রেণু ও পোনা উৎপাদন, মৎস্য চাষিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া। উল্লাপাড়ায় মৎস্য চাষির সংখ্যা বেশি হওয়ায় হ্যাচারি থেকে পোনা কিনতে অগ্রিম চাহিদা দিতে হয়। চাহিদা মোতাবেক নগদ টাকায় পোনা কিনতে হয়। হ্যাচারিটিতে রুই, কাতলা, মৃগেল, সরপুটি ও বাটাজাতের রেণু ও পোনা উৎপাদন হয়।

এবছর ১১০ কেজি রেণু ও ১ লাখ ৭৬ হাজার পোনা মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কিন্তু পানিতে আয়রনের কারণে রেণু ও পোনা উৎপাদনে ব্যাহত হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এ হ্যাচারিটির পানিতে আয়রন সমস্যা দুর করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ না থাকলে নিজস্ব জেনারেটর দ্বারা বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো প্রয়োজন হলেও এই হ্যাচারিতে তা নেই। লোডশেডিংয়ের কারণে রেণু ও পোনা উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া পুকুরগুলোর খনন ও সংস্কারের অভাবে পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। এতে পোনা উৎপাদন দিনদিন হ্রাস পাচ্ছে। পুকুরগুলোর পাড় ধসে যাওয়ায় পোনা রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

jagonews24

উল্লাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া এ বিষয়ে জানান, পুকুরগুলোর পাড় মেরামত ও খননসহ বিভিন্ন অবকাঠামো সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্প করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ হ্যাচারির মূল সমস্যগুলো চিহ্নিত করে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর হ্যাচারি কমপ্লেক্স থেকে বহুবার লিখিতভাবে জানানো হলেও সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। প্রকল্পটির অনুমোদন হলে আবার হ্যাচারি কমপ্লেক্সের দৃশ্যপট পাল্টে যাবে বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।

উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্দ্বীপ কুমার বলেন, প্রকল্পটি উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান। উদ্যোগ নিলেই বেশি পরিমাণ রেণুপোনা উৎপাদন করা সম্ভব। যা থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। অন্যদিকে মাছের ঘাটতি মেটাবে এবং সুষম খাবার হিসেবে আমিষ ও পুষ্টির অভাব মিটবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/আরআইপি

আরও পড়ুন