ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

সোহাগের মেধার কাছে হার মেনেছে অন্ধত্ব

জেলা প্রতিনিধি | হবিগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৪:৩৩ এএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৭

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আমিনুল ইসলাম সোহাগ। অসাধারণ মেধাবী। দেখতে না পারলেও প্রখর স্মরণশক্তি নিয়ে অন্ধত্বকে জয় করেছে। নিজের থেকে কম বয়সী এক কিশোরের সহায়তায় অংশ নিয়েছে জেএসসি পরীক্ষায়। প্রশ্ন পড়ে শোনানোর পর উত্তর মুখে বলে সোহাগ, আর সহযোগী খাতায় লেখে। সোহাগ হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর গ্রামের কৃষক নূরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় গংগানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সে। আর তাকে সহযোগিতা করছে একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র জায়েদ আহমদ। লেখাপড়া করে একজন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সোহাগের।

সরেজমিন জানা যায়, সোহাগ ৫ বছর বয়সেই অন্ধত্ব বরণ করে। তখন তার দুই চোখে সমস্যা দেখা দেয়। দরিদ্র বাবা প্রথমে সদর আধুনিক হাসপাতালসহ একাধিক ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা দিলেও কোনো ফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামের পাহাড়তলী হাসপাতালে গিয়ে তার চোখের অপারেশন করান। ডাক্তাররা সোহাগের চোখের ছানি অপারেশন করে লেন্স লাগিয়ে দেন। এরপর সে চোখে কিছুটা দেখতে পায়। তবুও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। মাঝে মধ্যে ঝাপসা দেখে সোহাগ। অনেক কষ্টে পড়তে পারলেও লিখতে পারত না।

চিকিৎসকরা বলেছিলেন, বয়স যত বাড়বে সে চোখে তত ভালো দেখতে পাবে। চোখে সমস্যা থাকলেও থেমে থাকেনি শিশু সোহাগ। অদম্য মনোবল নিয়ে লস্করপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যা পড়াতেন তা সে মুখস্থ করে ফেলতো। আর যেটুকু বাকি থাকতো তা কেউ বলে দিলেই মুখস্থ করে নিত। এভাবে ২০১৪ সালে শ্রুতি লেখকের সহযোগিতায় পিএসসি পাস করে সোহাগ। ভর্তি হয় সদর উপজেলার গংগানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। গরিব বাবার পক্ষে প্রাইভেট শিক্ষক দেয়া সম্ভব হয়নি। শ্রেণি শিক্ষকদের সহযোগিতায় সোহাগ অষ্টম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। অংশ নেয় এবারের জেএসসি পরীক্ষায়।

স্বাভাবিক পরীক্ষার্থীদের মতো সোহাগও অপেক্ষা করে কখন তার হাতে প্রশ্ন তুলে দেয়া হবে, আর সহযোগী জায়েদ আহমদ তাকে পড়ে শুনাবে। প্রশ্ন পড়ে শুনানোর সঙ্গে সঙ্গেই সে উত্তর বলে দেয়। তার বলে দেয়া উত্তর খাতায় লেখে সহযোগী জায়েদ আহমদ।

শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রপ্রধান মো. আবিদুর রহমান জানান, গংগানগর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আমিনুল ইসলাম সোহাগ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। আমার বিশ্বাস সোহাগ তার মেধা দিয়ে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করবে।

সোহাগের বাবা নূরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই অপেক্ষায় থাকি কখন ছেলে ভালোভাবে দেখতে পাবে। লেখাপড়ার প্রতি ছোটবেলা থেকেই পাগল ছিল সোহাগ। এ পরীক্ষায়ও সে ভালো ফলাফল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সোহাগের সহযোগী জায়েদ আহমদ জানায়, সে খুব মেধাবী। অল্প সময়েই সে যে কোনো প্রশ্ন মুখস্থ করে ফেলে। সে ভালো বলতে পারে তাই আমার লিখতেও কোনো সমস্যা হয় না। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে যখন তাকে প্রশ্ন বলি তখন সে উত্তর বলে দেয়।

সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এফএ/জেআইএম

আরও পড়ুন