ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ১৭ বছর অধ্যক্ষ, তদন্ত শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক | বগুড়া | প্রকাশিত: ১০:৪৮ এএম, ০৪ নভেম্বর ২০১৭

বগুড়ার ধুনটে গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজে ভুয়া কাগজ দাখিল করে ১৭ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি।

শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা না থাকলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে নিয়োগ বাণিজ্য এবং উন্নয়নের নামে অনুদান এনে দুর্নীতি করার অভিযোগ তুলে নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়েছে এলাকাবাসী। সেই অভিযোগের তদন্ত চলছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম উদ্বোধন করেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দাবিদার জাহাঙ্গীর আলম ২০০০ সালে ইসলামি শিক্ষার প্রভাষক হিসেবে ওই কলেজে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী দুটি তৃতীয় শ্রেণি কিংবা তৃতীয় বিভাগ প্রভাষক হিসেবে আবেদনের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু মাদরাসা বোর্ডের দুটি তৃতীয় শ্রেণিসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দ্বিতীয় বিভাগ নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম আবেদন করেছিলেন।

পরিপত্র অনুযায়ী তার আবেদনই গ্রহণযোগ্য নয়। তারপরেও নিয়োগ বোর্ড ওই সময় জাহাঙ্গীর আলমকে নিয়োগ দেন। এরপর গত ২০০৭ সালে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন।

অভিযোগে বলা হয়, জাহাঙ্গীর আলম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই গোসাইবাড়ি এলাকায় যারা কলেজের জমিদাতা এবং কলেজ প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদেরকে বাদ দিয়ে তার নিজস্ব লোকদের নিয়মবহির্ভূতভাবে সভাপতি ও সদস্য করে নিয়োগ বাণিজ্য এবং উন্নয়নের নামে দুর্নীতি করে যাচ্ছেন।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী লুৎফর রহমান নামের এক ব্যক্তি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী জাহাঙ্গীর আলম আবেদনই করতে পারেন না। এমপিওভুক্ত হলে তার এই ভুয়া পদও থাকবে না। তাই, তিনি কলেজটি যেন এমপিওভুক্ত না হয় সেজন্য নিজের পদকে ধরে রেখে তার মতো করে কমিটি করে চালিয়ে যাচ্ছেন।

মাদরাসা বোর্ডের দুটি তৃতীয় শ্রেণিসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দ্বিতীয় বিভাগ নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম প্রভাষক হন। ১৯৯৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী এই আইন প্রযোজ্য। ওই সময়ের পর কোনো পরিপত্র অনুসারে তার বিকল্প পন্থায় নিয়োগের বেলায় আর বৈধ হওয়ার সুযোগ নেই।

অভিযোগকারীদের আরেকজন রবিউল ইসলাম রবি বলেন, আমার বাবা প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ শুকুর মাহমুদ। কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য সাড়ে তিন বিঘা জমি দিয়েছেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম আমার নিয়োগপত্র থাকলেও আমাকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে দেয়নি। আমার মতো আরও অনেককে স্বাক্ষর করতে না দিয়ে তাদের বিপরীতে নিয়োগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

গোলাম মোস্তফা ঠান্ডু নামের আরেক অভিযোগকারী বলেন, নারী শিক্ষা প্রসারে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা হওয়া উচিত। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম ও তার সহযোগীরা নিজেদের স্বার্থের জন্য এটা করতে দিচ্ছেন না।

ধুনট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রোজিনা খাতুন বলেন, গত ১৬ অক্টোবর অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম জিন্নাহ জানান, ৩১ অক্টোবর গোসাইবাড়ী ডিগ্রি কলেজে তদন্ত কার্যক্রম চালানোর সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজনদের হট্টগোলের কারণে সেখানে তদন্তের পরিবেশ ছিল না। পরে ৫ নভেম্বের নির্বাহী কর্মকর্তার কনফারেন্স রুমে তদন্তের জন্য দুই পক্ষকে ডাকা হয়েছে। কাগজ অনুযায়ী তদন্ত হবে।

এএম/এমএস