একমাত্র মেয়েকে বাঁচাতে বিধবা মায়ের আকুতি
মেয়েকে বাঁচাতে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন দিনাজপুর শহরের এক সময়ের আলোচিত নাট্য ব্যক্তিত্ব রেনু বেওয়া। স্বামীর মৃত্যু ও নাট্যঙ্গনে ধস নামায় বর্তমানে তিনি শহরের একটি প্রতিষ্ঠানে ঝাড় দেয়া ও পরিষ্কার পরিছন্ন কর্মী হিসেবে চাকরি করছেন। পাশাপাশি অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসা করাচ্ছেন কবিরাজ দিয়ে। কারণ কবিরাজে চিকিৎসা খরচ অতি অল্প।
রেনু শহরের বালুবাড়ী মহারাজার মোড় এলাকার মৃত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী। তার দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আর ছোট মেয়ে পপলিকে (২৮) নিয়েই এখন তার সংসার। অভাব অনটনে ভালোই চলছিল মা-মেয়ের জীবন। কিন্তু গত ২২ অক্টোবর হঠাৎ স্ট্রোক করে ডান হাত ও পা অবস হয়ে যায় তার। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেয়েকে ভর্তি করা হয় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে কার্ডিওলজি বিভাগের ডাক্তার আবদুল মতিনের অধীনে চিকিৎসাধীন পপলি।
সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে ডাক্তার আবদুল মতিন জানান, ইলরা পপলির জন্মগতভাবে হার্টে একটি ফুটো রয়েছে। তার চিকিৎসা দিনাজপুরে সম্ভব নয়। তাকে ঢাকা হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। সেখানে তার অপারেশন সম্ভব। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হবে। একদিকে মেয়ের হার্ট ফুটোর কথা, অন্যদিকে দেড় লাখ টাকা যোগাড় করার চিন্তায় অহসায় হয়ে পড়েছেন রেনু বেওয়া।
তিনি জানান, অভাবের কারণে মেয়েকে ঢাকা নিয়ে যেতে পারছি না। চাকরি করে যা পাই তা দিয়ে সংসারই তো চলে না। মেয়ের চিকিৎসা করাবো কীভাবে? লোকজনের কাছে সহযোগিতা নিয়ে এখন কবিরাজের ওষুধ খাওয়াচ্ছি। জানি না মেয়েকে বাঁচাতে পারবো কীনা। হয়তো অভাব কেড়ে নেবে মেয়েকে আমার।

তিনি বলেন, মেয়েটা ছাড়া আমার আর কেউ নেই। সে বাঁচলে আমি বাঁচব, না হলে একা একা বাঁচতে পারবো না। শুনেছি অনেকেই অসহায় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ায়। আমার মেয়েকে বাঁচাতে কি কেউ আসবে না? পপলিকে কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন ০১৭৩৫-২৬২৪০১ নম্বরে।
এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/আরআইপি