ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নতুন ধানেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

জেলা প্রতিনিধি | নওগাঁ | প্রকাশিত: ০৩:১২ এএম, ১৬ নভেম্বর ২০১৭

বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়েক দফায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমনের আবাদ। এসব ধাক্কা কাটিয়ে এখন ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষা। তবে হাসি নেই কৃষকের মুখে। ধান ঘরে তোলার আগেই পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। ফলে লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার দুই লাখ ১৪০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছিল। তবে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি বাদে এক লাখ ৬১ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হলেও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৯৭ হাজার হেক্টর।

গত ২১ অক্টোবর নিম্নচাপ ও ঝড়ো হাওয়ায় ধানের গাছগুলো নুয়ে পড়ে। অনেক জমিতে পানি আটকে পড়ায় ধান গাছগুলো ভাসতে থাকে। পানি বেরিয়ে না যাওয়ায় পড়ে থাকা ধান গাছগুলো পচে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া পাতা মরা রোগ ও কারেন্ট পোকার আক্রমণে বিবর্ণ হয়েছে আমনের ধান শীষ। কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। কয়েকদিন বাদেই আমন কাটার ধুম পড়ে যাবে। ধানের এ অবস্থা দেখে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

jagonews24

নওগাঁ সদর উপজেলার গাংজোয়ার গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, আমনের ওপর কয়েক দফা প্রাকৃতিক দুর্যোগ গেছে। প্রথমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে ধানের চারার অভাবে অনেকটা লাগানো সম্ভব হয়নি। বাকী যে দুই বিঘা জমি আছে সেখানে কিছুদিন আগে ঝড়-বৃষ্টিতে ধানের গাছ নুয়ে পড়ে। এছাড়া পোকার আক্রমণও দেখা দিয়েছে।

জেলার বদলগাছী উপজেলার কোমারপুর গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, এবার ১০ বিঘা জমিতে বিনা-১৬ রোপণ করেছিলাম। আগাম কাটা-মাড়াই করে বিঘা প্রতি ১৭-১৮ মণ ফলন পেয়েছি। নুয়ে পড়া ধান কাটতে শ্রমিক খরচ একটু বেশি গুনতে হলেও শ্রমিক পেতে তেমন সমস্যাই পড়তে হয়নি।

মহাদেবপুর উপজেলার নাটশাল গ্রামের কৃষক কুদ্দুস হোসেন বলেন, এবার তিন বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘা জমিতে আবাদ করতে ৫-৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গত ঝড়-বৃষ্টিতে দুই বিঘা জমির ধান একেবারে শুয়ে পড়েছে। এছাড়াও পোকার আক্রমণে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি। পোকায় ধানের রসটা চুষে খাওয়ার পর গাছটা আসতে আসতে শুকিয়ে যাচ্ছে। কীটনাশক স্প্রে করেও দমন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বাড়তি টাকা খরচ হচ্ছে। ফলে ফলন বিপর্যয়সহ লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।

jagonews24

নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, গত বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি এবং উপকার দুটোই হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও ঝড়ে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এছাড়া কিছুদিন আগে যে বাদামি ঘাস ফড়িংয়ের (কারেন পোকার) আক্রমণ দেখা দিয়েছিল তা অনেকটাই দমন হয়েছে। আমন ধান কাটা উৎসব শুরু হয়েছে।

আব্বাস আলী/আরএআর/আরআইপি