ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

আইভি রহমান স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ বন্ধ করলেন ইউএনও

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) | প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭

 

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আইভি রহমান স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ।

মঙ্গলাবার সকাল থেকে নির্মাণের ঢালাই কাজ বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদার। নিম্নমানের পাথর ও বালু ব্যবহারের অভিযোগে গতকাল সোমবার বিকেলে স্টেডিয়ামে গিয়ে ঠিকাদার প্রতিনিধিকে কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

স্টেডিয়াম নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের শুরু থেকে নিম্নমানের কাজ করছে বলে অভিযোগ ছিল। ইতোমধ্যে গ্যালারির কাজ ৬০ ভাগ শেষ হয়েছে এবং বাকি কাজ চলছিল।

এর মধ্য স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. সায়দুল্লাহ মিয়ার কাছে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, স্টেডিয়াম নির্মাণে কাজের মান খুবই নিম্নমানের হচ্ছে।

এ অভিযোগ স্থানীয় সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনকে গতকাল সোমবার অবহিত করা হয়। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পেয়ে কাজ বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ডিসেম্বর মাসে স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। স্টেডিয়ামটির দ্বিতল প্যাভিলিয়ন ভবন নির্মাণ, গ্যালারি নির্মাণ, মাঠ উন্নয়ন, ড্রেন নির্মাণ, চারিদিকে দেয়াল, গ্রিল নির্মাণ ও মাটি ভরাট বাবদ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে ৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

এর আগে এ স্টেডিয়ামে কোনো ভবন বা গ্যালারি ছিল না। মেসার্স ভূইয়া অ্যান্ড ভূইয়া ডেভেলপার ও মেসার্স খলিলুর রহমান এ দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্টেডিয়ামের কাজ পেয়েছে। এ প্রকল্প কাজের মেয়াদ ছিল এক বছর। চলতি ডিসেম্বর মাসেই কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ৬ মাস বৃদ্ধি করে আগামী জুন মাস পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

স্টেডিয়ামের ভবন নির্মাণকাজ ৭৫ ভাগ শেষ হলেও গ্যালারিসহ অন্যান্য কাজ আরও ৪০ ভাগ বাকি আছে। সিডিউল অনুযায়ী থ্রি-৪ ভোল্ডার সাইজের পাথর ও সিলেকশন বালু দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করতে হবে। কিন্তু ভূইয়া অ্যান্ড ভূইয়া ডেভেলপার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সাইজ ঠিক না রেখে নিম্নমানের পাথর দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করছিল।

এছাড়া সিলেকশন বালুর পরিবর্তে নদী থেকে ড্রেজারে তোলা নিম্নমানের বালু দিয়ে কাজ করছিল। রডের সাইজ ও গুণগতমান এবং সিমেন্টের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ভূইয়া অ্যান্ড ভূইয়া প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, পাথরের সাপ্লায়ার নমুনার সাইজ যা দেখিয়েছেন তা দেননি তিনি। এ কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়। নুতন করে ভালোমানের পাথর এনে ঢালাইয়ের কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।

খলিলুর রহমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. ইসহাক আলী বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। স্টেডিয়ামের ভবন নির্মাণ কাজ ৭৫ ভাগ শেষ হয়েছে। আগামী জুন মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করতে পারব।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা পাওয়ায় নির্মাণকাজ বন্ধ করেছি। সেই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্মাণকাজে সিডিউল অনুযায়ী পাথর ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছি।

আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/আইআই