ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

নিরাপদ নয় পাখিপল্লীর পাখিরা

জেলা প্রতিনিধি | ঝিনাইদহ | প্রকাশিত: ০৪:২৬ এএম, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭

গ্রামের নাম আশুরহাট। তবে তা বদলে এখন পাখিপল্লী নামেই পরিচিত। বিরল ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বাসস্থল হলেও গ্রামটির হাজার-হাজার পাখি এখনও অরক্ষিত। সংরক্ষণে নেই সরকারি কোনো উদ্যেগ। অন্যদিকে চোরা শিকারিদের হাত থেকে মোটেও নিরাপদ নয় জীববৈচিত্রের এ ভারসাম্য রক্ষাকারীরা।

এলাকাবসী সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার নিত্যানন্দপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম আশুরহাট। গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় কয়েকটি মজা পুকুরের চারপাশে ৫/৬ বছর ধরে বাস করে আসছে বিরল প্রজাতির পাখি। শামুকখোল, শামুকভাঙ্গা, সারশ, পানকৌড়ী, সাদাবকসহ আরও নাম না জানা দেশি বিদেশি পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে আশুরহাট গ্রামটি।

Jhenidah-bird

এক সময় শীতের শুরুতে দু'একমাস থেকে আবার চলে যেত বলে সবাই বলত অতিথি পাখি। লম্বা ঠোট, লম্বা পা, আর লম্বা গলার সাদা পালকের ৩ থেকে ৫ কেজি ওজনের এসব পাখি দেখে অবাক হত সবাই। কিন্তু গত ৫-৬ বছরে বদলে গেছে গ্রামের দৃশ্যপট। এখন সবাই হরেক রকম পাখির কারণে পাখীপল্লী বলেই গ্রামটিকে চেনে।

গ্রামের শহীদুল ইসলাম জানান, বেশ কয়েকজনের পুকুর ও ৪/৫টি বাগানে পুরাতন শিমূল, জাম, মেহগনি গাছগুলোতে পাখিরা গড়েছে নিরাপদ আবাস। আর এ সবই সম্ভব হয়েছে এলাকার সহজ-সরল মানুষগুলাের প্রকৃতি প্রেমিক মনুষিকতার জন্য।

গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এখন এসব পাখি আর অতিথি নয়, যেন বাড়ির পোষা পাখি। গত ৬ বছর ডিম দিচ্ছে, বাচ্চা তুলছে আর সারা বছর বাগান জুড়ে থাকছে। এবার পাখির সংখ্যা ছাড়িয়েছে আনুমানিক ২০ হাজার।

Jhenidah-bird

গ্রামের গোপাল বিশ্বস জানান, আশপাশের ধানখেত, আর বিল-বাওড় থেকে ওরা খাবার খুঁজে ফেরে। তবে শিকারের হাত থেকে মোটেও নিরাপদ হতে পারেনি বিরল প্রজাতির এসব পাখি। প্রায়ই তীর-ধনুক আর গুলি করে শিকার করা হচ্ছে। আবাসস্থলটি ব্যক্তিগত হওয়ায় অনেকে আবার গাছ কেটে ফেলায় আশ্রয় হারাচ্ছে এসব পাখিরা।

ঝিনাইদহ জেলা বন কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন জানান, বাংলাদেশে প্রায় ৭৫০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। কিন্তু পরিবেশ দুষণসহ নানা কারণে পাখির আবাসস্থল কমে আসছে। এরা এসেছিল মাইগ্রেট পাখি হিসেবে। কিন্তু এখন এরা স্থানীয় পাখি হয়ে গেছে। এদের রক্ষার্থে বিভিন্ন এনজিও ও বেসরকারি সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে বলে জানান এ পাখি বিশেষজ্ঞ।

আহমেদ নাসিম আনসারী/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন