ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিনের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী আজ

জেলা প্রতিনিধি | নোয়াখালী | প্রকাশিত: ০৬:৫৫ এএম, ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

আজ ১০ ডিসেম্বর, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মো. রুহুল আমিনের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী। নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে দেশের মানুষ স্মরণ করছেন এ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য যে ৭ জন শহীদ ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত হন, তাদের অন্যতম রুহুল আমিন। ১৯৩৪ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বাগপাঁচড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই অকুতোভয় বীর সৈনিক। তার বাবার নাম মোহাম্মদ আজহার পাটোয়ারী এবং মায়ের নাম জুলেখা খাতুন।

রুহুল আমিন ১৯৫০ সালে নাবিক হিসেবে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এপ্রিল মাসে তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পিএনএস বখতিয়ার ত্যাগ করে ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে ২ নম্বর সেক্টরে যোগ দেন। সেখানে স্থল যুদ্ধে একাধিকবার অংশগ্রহণ করে সাফল্য অর্জন করেন তিনি। পরে যুদ্ধ জাহাজ ‘পলাশ’ এর আর্টিফিসার অফিসার হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১০ ডিসেম্বর তারা খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি পৌঁছালে শত্রু পক্ষের বোমারু বিমান যুদ্ধ জাহাজে আঘাত হানে। রণতরী ‘পলাশ’ ত্যাগ করে প্রাণ বাঁচানো সহজ ছিল। কিন্তু বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন তা না করে সম্মুখ যুদ্ধ শুরু করেন। বীরের মতো যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে শহীদ হন।

Noakhali1

স্বাধীনতার পর এ বীরের নামে নিজ এলাকায় গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর নির্মিত হলেও বর্তমানে সেটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। ফলে যে লক্ষ্যে এ বীরের নামে এসব স্থাপনা করা হয়েছে তা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারিয়ে ম্লান হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসীরা।

মহান মুক্তিযুদ্ধে তার বীরত্বগাঁথা ইতিহাস জানার জন্য গ্রন্থাগারে এসে নতুন প্রজন্ম সামান্য কিছু বই ছাড়া আর কিছু না পেয়ে হতাশ হন। জাদুঘরটি আছে নামে মাত্র। এখানে যুদ্ধের কোনো স্মৃতি চিহ্ন নেই।

Noakhali1

এলাকাবাসীর অভিযোগ নিয়মিত এ গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর খোলা এবং পরিচর্যা করা হয় না। লাইব্রেরিতে নতুৃন বই সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি গত চার বছর ধরে পত্রিকা দেয়াও বন্ধ রয়েছে।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, অধিকাংশ সময়ই জাদুঘর ও লাইব্রেরি বন্ধ থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে কেউ এটি দেখতে আসলে বাড়ি থেকে কেয়ারটেকারকে ডেকে আনতে হয়। তালা বন্ধ থাকায় অনেক সময় দর্শনাথীরা না দেখেই চলে যান। তাছাড়া জাদুঘরটি নামেই জাদুঘর। মুক্তিযুদ্ধের কিছু বই ছাড়া যুদ্ধে ব্যবহৃত সমরাস্ত্র না থাকার কারণে এলাকার ছাত্র, যুবক, শিক্ষার্থীরা এমনকি দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা হতাশ হয়ে ফিরে যান। তারা এটিকে পূর্ণাঙ্গ জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন।

Noakhali1

জাদুঘর ও লাইব্রেরিতে থেকে এক থেকে দেড়শ গজ দূরেই থাকেন বীরশ্রেষ্ঠের ছোট ছেলে শওকত হোসেন। নৌবাহিনী পক্ষ থেকে থেকে প্রায় ২৭ বছর আগে দুই কক্ষের ওই পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়। সেখানে স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করেন তিনি।

শওকত হোসেনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম জাগো নিউজকে জানান, প্রতি মাসে সরকার থেকে প্রাপ্ত ভাতার একটি অংশ ও ব্যাংকে রাখা এফডিআরের তিন মাস অন্তর অন্তর পাওয়া লভ্যাংশ দিয়ে কোনো মতে তাদের সংসার চলে যাচ্ছে। তবে যে ভবনটিতে থাকেন সেটি অনেকে আগেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বর্ষকালে এ ভবনে থাকা যায় না।

মিজানুর রহমান/এমএমজেড/এমএস

আরও পড়ুন