আ.লীগের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে মাঠেই পচে নষ্ট হচ্ছে ১২ বিঘা জমির পাকা ধান। উপজেলার লক্ষনদিয়া গ্রামে ধান কাটাকে কেন্দ্র করে চলছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের অস্ত্রের মহড়া। সংঘাত এড়াতে গত এক মাস ধরে দফায় দফায় প্রশাসনিক বৈঠক হলেও আশানুরুপ ফল নেই। সমাজপতিদের রাজনৈতিক কূটকৌশলে আটকে মাটিতে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে মাঠভরা পাকা ধান।
এ বিষয়ে আবাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন চাষাবাদ করে জমি দখলে রাখা লক্ষনদিয়া গ্রামের সোরাপ সেখ নিজেকে কয়েক দাগে ১২ বিঘা জমির মালিক দাবি করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অন্যদিকে জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার নাসির মুন্সী গং পৈত্রিক জমির দলিল-প্রমাণ পেশ করেও দখল হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবাইপুর ইউনিয়নের লক্ষনদিয়া গ্রামের মৃত মুন্সী আনোয়ারুল ইসলামের ওয়ারিশগণের পক্ষে তাদের সমুদয় জমাজমি দেখাশোনা করেন নাসির মুন্সী। তবে বহু বছর ধরেই মুন্সী পরিবারের মাঠের জমি বর্গাচাষিরা চাষাবাদ করে আসছেন। গত ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র জমির মালিকপক্ষ এবং বর্গাচাষিরা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েন। জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার নাসির মুন্সী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী মোক্তার আহম্মেদ মৃধার নৌকা প্রতীকের পক্ষে সমর্থন দেন এবং অপরদিকে সোরাপ সেখ নির্বাচন করেন বিদ্রোহী গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বিশ্বাসের সঙ্গে।
নির্বাচন পরবর্তী আবাইপুর ইউনিয়নে স্থানীয়ভাবে দাঙ্গা-হাঙ্গামা আর রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমেই বাড়তে থাকে। এর জের ধরে লক্ষনদিয়া মাঠে নাসির মুন্সীর জমির দখলে থাকা চাষিরা ষোল আনা ফসল ঘরে তুলে নেয়। বর্তমানে তারা নিজেদের ১২ বিঘা জমির মালিক বলে দাবি করছেন। তবে কয়েকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো প্রকার বৈধ দলিল প্রমাণাদি দেখাতে পারেননি।
অপরদিকে জমির মালিক নাসির মুন্সী সমুদয় কাগজপত্র হাজির করলেও দখল না থাকায় রাজনৈতিক কৌশলের ফাঁদে আটকে গেছেন বলে জানিয়েছেন। নাসির মুন্সীর অভিযোগ, তার পৈত্রিক সম্পত্তির দলিলপত্র, রেকর্ড, খাজনা-খারিজসহ বিধিসম্মত কাগজপত্র থাকলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হেলাল উদ্দিনের দল না করায় তিনি জমির দখল পাচ্ছেন না। গত এক মাস ধরে উভয়পক্ষই লোকবল নিয়ে ধান কাটার চেষ্টা চালালে সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসন কঠোর হওয়ায় মাঠেই নষ্ট হচ্ছে সোনালি ফসল।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, শৈলকুপার আবাইপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিনসহ উভয়পক্ষের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বার বার বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ সোরাপ সেখ কাগজপত্র দেখানোর জন্য কয়েকদিন সময় নিয়েছে বলেই ধান কাটা হয়নি। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিবাদমান এ দুটি গ্রুপের মাঝে নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকেই অস্থিরতা বিরাজ করছে। লক্ষনদিয়া মাঠে ১২ বিঘা জমির ধান কাটাকে কেন্দ্র করে সব ধরনের অপতৎপরতা রুখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আহমেদ নাসিম আনসারী/আরএআর/পিআর
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ এলপিজি সংকটে সব গ্যাস স্টেশন বন্ধ, ভোগান্তিতে চালক-সাধারণ মানুষ
- ২ কোটিপতি ‘ব্যবসায়ী’ তাহেরীর স্ত্রীর নামে কিছুই নেই
- ৩ মোড়কজাত নিবন্ধন না থাকায় দুই প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা
- ৪ ‘প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে ক্যামেরা থাকবে, লাইভ দেখা যাবে থানা থেকে’
- ৫ বিএনপি জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী পার্থ, মনোনয়ন প্রত্যাহার গোলাম নবীর