স্বেচ্ছাশ্রমে দীর্ঘ ভাসমান সেতু
যশোরের মণিরামপুরে বাঁওড় বেষ্টিত গ্রাম ঝাঁপা। প্রায় ২০ হাজার জনবসতি অধ্যুষিত গ্রামটির তিনটি ওয়ার্ডের মানুষকে বছরের পর বছর নৌকায় পারাপার হতে হয়। বৈরী আবহাওয়ায় রুদ্ধ হয়ে যায় যাতায়াতের এ মাধ্যমও। এতে অনেক সময় মুমূর্ষু রোগী কিংবা জরুরি কাজে অন্যত্র যাওয়া মানুষকে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।
এই আজন্ম দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠনের ৫৬ জন সদস্যের চেষ্টায় সেখানে নির্মাণ হচ্ছে ভাসমান সেতু। সদস্যদের স্বেচ্ছাশ্রম ও নিজেদের অর্থায়নে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে প্লাস্টিকের ব্যারেল ও লোহার শিটের সমন্বয়ে নির্মিতব্য সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩শ ফুট। আগামী বছরের প্রথম দিনে ভাসমান ওই সেতুতে চলাচল করবে রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল।

ভাসমান এ সেতু নির্মাণের অন্যতম উদ্যোক্তা ঝাঁপা গ্রাম উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মেহেদী হাসান টুটুল জানান, সরকারি দফতরগুলোতে বারবার আবেদনের পরও সাড়া না পেয়ে ভাসমান সেতু নির্মাণের জন্য চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মিটিং করা হয়। তাতে সাড়াও মেলে আশাতীত। সংগঠনের ৫৬ জন সদস্যের অর্থায়নে শুরু করা হয় ১৩শ ফুট দৈর্ঘ্যর ভাসমান সেতু নির্মাণের কাজ। সংগঠনের বাইরে অনেক কৃষক, শ্রমিক শরীক হচ্ছেন তাদের সঙ্গে। আজিজ নামের এক ব্যক্তি জমি বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ভাসমান সেতুর দৈর্ঘ্য ১৩শ ফুট ও প্রস্থ হচ্ছে ৯ ফুট। আর সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে ৮৮৯টি বড় আকারের প্লাস্টিকের ব্যারেল। যা সংযুক্ত রাখার জন্য লোহার শিট ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সাথে ব্যারেলের উপর দিয়ে চলাচলের জন্য দেয়া হচ্ছে ১৩শ’ ফুট দৈর্ঘ্যর লোহার পাত। প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে বৃহত্তর ভাসমান এ সেতুটি।

ভাসমান সেতু নির্মাণের ধারণা আসে ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ আরেক উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামানের মাথায়। তিনি বলেন, প্লাস্টিক ব্যারেল নির্মিত ভেলার উপর ভারী মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের দৃশ্য দেখেই এ ভাসমান সেতুর ধারণা নেয়া হয়। সেই মোতাবেক বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি সম্মতি দেন। এরপর সরকারি বিভিন্ন দফতরের অনুমতি নিয়েই এ ভাসমান সেতু নির্মাণ কাজে হাত দেয়া হয়। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে সেতুটি তৈরির পর আগামী পহেলা জানুয়ারি সাধারণ মানুষ ও যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।
মেহেদী হাসান টুটুল আরও জানান, সেতুর উপর দিয়ে ভ্যান, রিকশা ও ইজিবাইকসহ হালকা যান চলাচল করতে পারবে।
নদী পারের জন্য খেয়াঘাটে অপেক্ষমান জাহানারা বেগম নামে এক গৃহবধূ বলেন, সেতুটি নির্মাণ হলে আমাদের চলাচলে দুর্ভোগ কমবে। এতে আমরা খুবই খুশি।
উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান জানান, তার জানা মতে দেশে এ ধরনের ভাসমান সেতু আর নেই। এ ধরনের সেতু মানুষ চলাচলের জন্য ভালো। কিন্তু ভারী যান চলাচলে কোনো কারণে ব্যারেল লিকেজ হলে-সেক্ষেত্রে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৯ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে ঝাঁপা গ্রামের মরহুম ডাক্তার আজিবর সরদারের বড় ছেলে শামসুজ্জামান মন্টুর (৫৮) হার্ট আ্যাটাক হলে হাসপাতালে নেয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলেও যানবাহন না পাওয়ায় পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়। গত ৬মার্চ রাতে ঝাঁপা গ্রামের কাঁচামাল বিক্রেতা মতিয়ার রহমানের প্রসূতি মেয়ে রোকেয়া বেগমকে (২০) হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়।
এছাড়া গত ৫ অক্টোবর সকালে রাজগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আসার পথে আব্দুল আজিজের ছেলে সুমন (১২) ঝাঁপা বাঁওড়ে পড়ে গেলে বাঁওড়ের জেলেরা তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ঝাঁপা গ্রামবাসী বাঁওড়ের উপর একটি সেতু নির্মাণ করার জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও করেছে। কিন্তু তাতে কোনো সুফল মেলেনি। বংশ পরম্পরায় তাদের এ রকম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণ হলে ভোগান্তি অনেক কমে আসবে।
মিলন রহমান/আরএআর/পিআর
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ জামায়াতে যোগ দিলেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির অর্ধশত নেতাকর্মী
- ২ অনুপ্রবেশ করা ৬ বাংলাদেশিকে ভারতীয় গ্রামবাসীর গণপিটুনি, ভিডিও ভাইরাল
- ৩ বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে সরে দাঁড়ালেন গণঅধিকারের প্রার্থী
- ৪ জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে নির্মিত তোরণ ভেঙে দিলো প্রশাসন
- ৫ জামায়াত নেতার অর্ডারে লক্ষ্মীপুর ভোটের সিল তৈরি