ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে ৪৫ কি.মি যানজট
ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের মির্জাপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত শনিবার ভোর থেকে মহাসড়কের ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের আবর্তে পড়েছে।
কোথাও কোথাও যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আবার কোথাও একেবারে ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
টানা তিন দিন ধরে মহাসড়কের এ অসহনীয় যানজট সৃষ্টির ফলে নাকাল যানবাহনের যাত্রী, চালক, পরিবহনের সংশ্লিষ্টরাসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এ নিয়ে মহাসড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শতশত যাত্রীবাহী বাস ও মালবোঝাই ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকা পড়ে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ সুযোগে সিএনজিচালিত অটো যানগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে চালকরা।

শনিবার দুপুর ১টার দিকে মহাসড়কের ময়মনসিংহ লিংক রোডে দেখা যায়, তীব্র যানজটে আটকে খুবই ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। এই পরিস্থিতিতে এখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট জামিলুর রহমান ও ইন্সপেক্টর একরাম হোসেন পুলিশ বক্সের ভেতরে প্রায় ১ ঘণ্টা আড্ডা দিয়েছেন।
১ ঘণ্টা পর সার্জেন্ট জামিলুর রহমান পুলিশ বক্স থেকে বের হয়ে যানজট নিরসন না করে গাড়ি চেকআপ করা শুরু করেন। ওই স্থানে উপস্থিত কয়েক ব্যক্তি বলেন, ট্রাফিক পুলিশ প্রতিদিনই এরকম কাজ করে থাকেন।
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি ও শনিবার বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেনের কাজ চলমান এবং বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত থাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। গতকাল শুক্রবারও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যান চলাচলে ধীরগতি এবং তীব্র যানজট ছিল।
এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর একরাম হোসেন বলেন, রাস্তায় সকাল থেকে যানজট রয়েছে। যানবাহনের চাপ আর মহাসড়ক সম্প্রসারণে কাজ চলমান থাকার কারণে টাঙ্গাইল অংশে এ যানজট সৃষ্টি হয়।
যানজট নিরসনে গাফিলতির কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, যানজট নিরসনের পাশাপশি আমাদের মামলাও দিতে হয়। সড়কে চলাচল করা যানবাহনগুলো চেকআপ করতে হয়। তাই একটু দেরি হয়।
আরিফ উর রহমান টগর/এএম/আরআইপি