আসামি গ্রেফতারে ওসি ও এসআইয়ের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
গ্রেফতারের তিনদিন পর গাজীপুরের কালীগঞ্জে ব্যবসায়ী সাইকুল ইসলাম (৪৫) হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মো. জালাল উদ্দিন জালুকে (৫২) শনিবার দুপুরে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সাইকুল কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বড়নগর গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে তাঁত ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অন্যদিকে গ্রেফতার জালু বড়নগর গ্রামের মৃত তাইজুদ্দিনের ছেলে।
এর আগে ২৭ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে হত্যা মামলার ৩ নং আসামি মো. আলামিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার জবানবন্দি অনুযায়ী ওদিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে মামলার মূল পরিকল্পনাকারী জালুকে কালীগঞ্জ পৌর এলাকার বড়নগর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলাল উদ্দিন। কিন্তু শনিবার আদালতে প্রেরণের পর বলছেন ভিন্ন কথা।
তিনি বলেন, তাকে শুক্রবার গ্রেফতার করে শনিবার আদালতে প্রেরণ করেছি। আগের গ্রেফতারের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাই মুখে বললে তো হবে না। কাগজ-পত্র কথা বলবে।
তবে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলম চাঁদ বলছেন, ভিন্ন কথা। ওসি বলেন, তাকে এ কয়দিন থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের কারণেই হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে আসে।
জানা গেছে, চলতি মাসের ৭ তারিখে রাতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ব্যবসায়ী সাইকুলকে বড়নগর রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায় দুর্বৃত্তরা।
সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরের দিন (শুত্রবার) রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ৯ ডিসেম্বর নিহতের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৩৫) বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ এজাহার নামীয় ৬ নং আসামি চৌড়া গ্রামের মৃত ছদুরউদ্দিনের ছেলে মো. জুলহাস মিয়া, ৩ নং আসামি বড়নগর গ্রামের হজরত আলীর ছেলে মো. আলামিনকে (৩৫) ও সন্দেহভাজন হিসেবে বড়নগর গ্রামের জনি নামের একজনকে গ্রেফতার করে গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করে। পরে আদালত তাদের গাজীপুর জেলহাজতে পাঠায়।
এ মামলার বাকি আসামিরা হলেন- বড়নগর গ্রামের মৃত নৈমুদ্দির ছেলে প্রবাসী আজিজুল্লাহ (৫৫) ও তার ছেলে আরিফ (৩০), আহসান উল্লাহর ছেলে আসাদুল্লাহ (৩০), বালীগাঁও গ্রামের আব্দুল মোতালিবের ছেলে মো. আবু নাইম (৩৫), চৌড়া গ্রামের মৃত মোসলে উদ্দিনের ছেলে মো. কবির হোসেন (৪৫)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রবাসী আজিজুল্লাহর হুকুমে একাধিকবার জালাল উদ্দিন জালু হত্যার পরিকল্পনা করে এবং সেভাবেই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আগে থেকে ব্যবসায়ী সাইকুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
আব্দুর রহমান আরমান/এএম/আরআইপি