ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

‘মুক্তি’র সচেতনতায় রোধ হচ্ছে ইন্টারনেটে যৌন হয়রানি

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ১২:০৯ পিএম, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭

ফারহানা (ছদ্মনাম) কক্সবাজার সৈকত বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে চঞ্চল ফারহানা শ্রমজীবী এক তরুণের নজর কাড়ে। ধীরে ধীরে পরিচয়, কথা বলা ও বালিয়াড়ি ঘুরে বেড়ানো হয়েছে কয়েক বার। মনে ভালোলাগা জাগিয়ে একান্ত কাছে পেতে চেয়ে ব্যর্থ তরুণ হুমকি দেয় ফারহানার অশালীন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবে। এতে ঘাবড়ে গিয়ে স্কুল যাওয়া বন্ধ করে ফারহানা। ঘরেও অমনযোগী। একসময় বান্ধবীদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তাকে সাহস যুগিয়েছে অর্চনা দাশ নামে এক এনজিও কর্মী। তিনি ‘ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং ট্রাভেল ট্যুরিজমের মাধ্যমে শিশুর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ’ নামে এক প্রকল্পে কাজ করছেন। এখন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে স্বাভাবিক জীবন চালাচ্ছে ফারহানা।

শুধু ফারহানা নয়, কক্সবাজার পৌরসভাসহ সদর উপজেলার অর্ধডজন ইউনিয়নের প্রায় ৪ শতাধিক উপকারভোগী শিশু ও অভিবাবক অর্চনাদের সেবা পেয়েছেন।

কক্সবাজারে ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং ট্রাভেল ট্যুরিজমের মাধ্যমে শিশুর যৌন হয়রানি রোধে সচেতনতা বাড়াতে প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে ‘মুক্তি কক্সবাজার’ নামে এক বেসরকারি সংস্থা। কর্ম এলাকার শিশুসহ কিশোর-কিশোরী, বাবা-মা, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার সকল পর্যায়ের লোকজনকে সম্পৃক্ত করে নানামুখি কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা। এতে স্থানীয় লোকজন সচেতন হওয়ার পাশাপাশি হ্রাস পাচ্ছে ইন্টারনেট ভিত্তিক যৌন নির্যাতনের ঘটনাও।

দাতা সংস্থা ‘টিডিএইচ নেদারল্যান্ডস’র সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির লিড পার্টনার আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভা, সদর উপজেলার খুরুশকুল, চৌফলদন্ডী, ঝিলংজা, ঈদগাঁও, পিএমখালী ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নে এ প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। বিগত ২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

‘ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং ট্রাভেল ট্যুরিজমের মাধ্যমে শিশুর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ’ প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. আলমগীর হোসেন বলেন, যে সকল কিশোর-কিশোরী ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং ট্যুরিজমের মাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার হয় বা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে তাদের জীবন দক্ষতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়ে মনোবল দৃঢ় করাই এ প্রকল্পের কাজ। এছাড়াও কর্ম এলাকায় বাল্য বিয়ে, এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণসহ অন্যান্য সকল প্রকার লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠক, ক্যাম্পেইনসহ নানা কার্যক্রম চলছে। যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া শিশুদের আইনি সহায়তা প্রদান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা সেবা সহায়তা প্রদান করা হয়।

প্রকল্পের প্রাক্তন প্রকল্প সমন্বয়কারী হীরা বণিক কর্মক্ষেত্রের নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে বলেন, অনলাইনে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দিয়ে অপবাদ দেয়া, মোবাইলে হুমকি দেয়া, বড় অংকের টাকা দাবি করে ফোন করা, ব্ল্যাকমেইল করা এই বিষয়গুলোতে প্রতিবাদ করতে বা সাহসী ভূমিকা নিতে অভিবাবকরা ভয় পান। সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে অনেকে আইনি ব্যবস্থা নিতে চান না। প্রকল্পটি শেষ হয়ে গেলেও উপকারভোগীরাই নিজ থেকে সচেতনতা বাড়াবে এমনটি বিশ্বাস আমাদের।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, বেসরকারি সংস্থা মুক্তির কর্মীরা এসব বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকবার পুলিশের সহযোগিতা নিয়েছেন। আমাদেরও কাম্য সামাজিক ভাবে এসব অপরাধ প্রতিরোধে সচেতনতা গড়ে উঠুক।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/আইআই

আরও পড়ুন