ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

১২ বছরেই সংগ্রামের পথে আয়েশা

কালীগঞ্জ(গাজীপুর | প্রকাশিত: ১১:৪৬ এএম, ০২ জানুয়ারি ২০১৮

গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের গ্রাম ফুলানিরসিট। সেই গ্রামে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান আছে। সেই দোকানের দায়িত্বে রয়েছে ১২ বছর বয়সী কিশোরী আয়েশা আক্তার।

মায়ের অনুপস্থিতিতে বাবা ও ভাইকে নিয়ে তার সংসার। দোকানদারি শেষে তাকে পাঁচ কিলোমিটার দূরের বিদ্যালয়ে পাঠ নিতে হয়। নিজের ও বড় ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচও যোগাতে হয় আয়েশা আক্তারকে। আর এভাবেই চলছে তার টিকে থাকার সংগ্রাম।

আয়েশার বাবা মনসুর আহমেদের বাড়ি ছিল ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ব্রক্ষপুত্রের তীরে। আট বছর আগে নদী ভাঙনে ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে যায়। জীবিকার সন্ধানে মেয়ে আয়েশা ও ছেলে আসাদ মিয়াকে নিয়ে চলে আসেন গাজীপুরের শ্রীপুরে। সেখান থেকে মাওনা ইউনিয়নের ফুলারিসীট গ্রামে। সেখানে রাস্তার পাশেই গড়ে তুলেন অস্থায়ী ঘর।

ঘরের ভেতরে বাপ ছেলে-মেয়ের রাতের বেলায় থাকার ব্যবস্থা হলেও সংসার চালানোর ব্যয় নির্বাহের জন্য বারান্দায় চায়ের দোকান খুলে বসেন। আর দোকানের দায়িত্ব পড়ে মেয়ে আয়েশার ওপর। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বারতোপা উচ্চ বিদ্যালয় হতে সপ্তম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। তার ভাই আসাদ মিয়াও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে শুরু হয় আয়েশার প্রতিদিনের জীবন সংগ্রাম। চলে গভীর রাত পর্যন্ত। সকালে একদিকে পরিবারের রান্না ও দোকান সামলে তাকে পাঁচ কিলোমিটার পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। আশপাশে টিউওয়েল বা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় দুই কিলোমিটার দূর হতে দোকানের কাস্টমার ও পরিবারের জন্য টেনে আনতে হয় বিশুদ্ধ খাবার পানি। দোকানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পড়া শিখতেও তাকে মন দিতে হয়।

আয়েশার বাবা মনসুর আহমেদ জানান, সংসারের অভাব-অনটন ঘুচাতে তাকে বিভিন্ন জায়গায় কাজে যেতে হয়। এজন্য তাকে অনেক সময় ফিরতে হয় গভীর রাতে। এসময় গভীর বনের ভেতর তাকে একাই থাকতে হয়। পুরো সংসার সামলানোর ভার এখন মেয়ে আয়েশার ওপর।

আয়েশার ভাই আসাদ মিয়া জানায়, এমন বোন পেয়ে সে খুব খুশি। তার মায়ের অবর্তমানে সংসারের সবকিছু সময় মতো আয়েশা করে থাকেন। আবার নিজের লেখাপড়াও সমানতালে করে যাচ্ছে। তবে সে মাঝে মাঝে আয়েশার কাজে সহযোগিতা করে বলেও জানায়।

আয়েশা আক্তার জানায়, তার স্বপ্ন যেভাবেই হোক উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এজন্য যেকোনো ধরনের পরিশ্রম করতে সে আগ্রহী। নিজের ও ভাইয়ের লেখাপড়ার জন্য সে সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত পরিশ্রম করে।

মাওনা ইউপি সদস্য সুরুজ্জামান জানান, আয়েশা ও তার ভাই নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে চায়ের দোকান চালিয়ে লেখাপড়া করে যাচ্ছে। আয়েশাকে এলাকার সবাই মেয়ের মতো স্নেহ করেন। তবে মেয়েটি এ সমাজে জীবন সংগ্রামের জ্বলন্ত উদাহরণ।

বারতোপা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কবির হোসেন জানান, আয়েশা প্রতিদিন অনেক দূর হতে হেঁটে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। চায়ের দোকান ও সংসার পরিচালনা করে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া সত্যিই অবাক করে।

আব্দুর রহমান আরমান/এমএএস/আইআই

আরও পড়ুন