ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ঋণ আর দাদন চক্রেই জীবন পার

জেলা প্রতিনিধি | পটুয়াখালী | প্রকাশিত: ১০:১৮ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০১৮

প্রজন্মের পর প্রজন্ম জালে বন্দী উপকূলীয় জেলেদের জীবন। দিন এনে দিন খাওয়া এসব জেলে পরিবারগুলো একদিন মাছ ধরতে না পারলে থাকতে হয় অনাহার কিংবা অর্ধাহারে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক বিষয়গুলো তাদের কাছে বরাবরই বিলাসিতার বিষয়। এর বাইরে মহাজনদের দাদন চক্রে জেলেদের জীবন হয় বিভিশিকাময়।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের মূল বেড়িবাঁধের বাইরে খাজুড়া এলাকায় সরকারি খাস জমিতে খড়ের ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন ৬০ বছর বয়সী সেলিম শিকদার। ১০ বছর বয়স থেকে তিনি মাছ ধরছেন গভীর সাগরে।

সেলিম শিকদার জানান, বর্তমানে তার ১০ ছেলে মেয়ের মধ্যে পাঁচ ছেলে মাছ ধরা পেশায় জড়িত। তবে দীর্ঘ ৬০ বছরেও মাছ ধরে তার পরিবারে স্বচ্ছলতা আসেনি। বছরের পর বছর উত্তাল সাগরে মাছ ধরছেন কিন্তু কোনোদিন মাছের মাথা থালায় তুলতে পারেননি তিনি।

Patuakhali

সেলিম শিকদারের মতো পুরো উপকূল জুড়ে জেলে পরিবারগুলোর একই অবস্থা। তাদের জীবন জীবিকায় নেই কোনো পরিবর্তন। ফলে অশিক্ষা ও অপুষ্টিতে বেড়ে উঠছে জেলে পরিবারের সন্তানরা। পূর্ব পুরুষের পেশার ধারাবাহিকতায় জেলে হিসেবেই জীবন অতিবাহিত হচ্ছে তাদের।

বাউফলের চন্দ্রদীপ ইউনিয়নের চর ওয়াডেল গ্রামের মো. রফিক হাওলাদার বলেন, মাছ ধরে সংসার চলে। মাছ না ধরলে সংসার চলে না। অর্থ নেই, তাই সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে জালের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ শিকার করায় নদীতে মাছ কমেছে। ফলে ঋণও পরিশোধ করতে পারি না। তাই মহাজনের কাছ থেকে দাদন নেই। এই ঋণ আর দাদনেই নিঃস্ব আমরা।

সরকারি হিসাবে পটুয়াখালী জেলায় প্রায় ৬০ হাজার জেলে সরাসরি মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িত। তবে এসব জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন সময় উদ্যোগ নিলেও তৃণমূল পর্যায়ে তা কোনো দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে পারেনি।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন