ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে বিএনপি নেতাকর্মীরা

জেলা প্রতিনিধি | কক্সবাজার | প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এ রায়কে ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আন্দোলন ঠেকাতে আগে থেকেই মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কক্সবাজারে টার্গেট করে বিএনপি নেতাদের বাড়ি ও হোটেলে অভিযান চালানো হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে অভিযান চলায় এখন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছেন। বন্ধ করে দিয়েছেন দলের কার্যালয়ে আসাও। জেলা ও উপজেলা শহরের দলীয় কার্যালয়গুলো বর্তমানে জনশূন্য।

সূত্র মতে, চলতি বছরের শুরুতে কক্সবাজার জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হঠাৎ প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের পদচারণা বেড়েছিল চোখে পড়ার মতো। সারাদিন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ে আড্ডায় মশগুল থাকতো। কিন্তু দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একটি দুর্নীতি মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা হবার পর থেকেই ধরপাকড় শুরু হলে নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে গেছেন।

বিএনপির দায়িত্বশীলদের মতে, পুলিশ জেলা-উপজেলায় বিএনপি কার্যালয় ঘিরে রাখায় গ্রেফতার আতঙ্কে কেউ যাচ্ছেন না।

কিন্তু জেলা পুলিশের দাবি, শান্তি-শৃঙ্খলা বাজায় রাখতে পুলিশ নিয়মিত তৎপরতা চালালেও বিএনপির কোনো নেতাকর্মীকে তারা বাধা দিচ্ছে না। নাশকতা এড়াতে বিএনপির কার্যালয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক। তাই আমরা আশা করছি বেগম জিয়া মামলা থেকে খালাস পাবেন। তবে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হলে আসবে কর্মসূচি। কিন্তু আগাম কোনো কর্মসূচি নেই। এরপরও পুলিশ বিএনপি কার্যালয় অবরুদ্ধ করে রেখেছে। বিএনপি গণতান্ত্রিক দল। কর্মসূচি হবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের ৮ উপজেলায় কোনো কারণ ছাড়াই অসংখ্য নেতাকর্মীকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ আনা হচ্ছে।

দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মী না আসা প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা বলেন, বর্তমান নেতৃত্ব সঠিক দিক নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। না হলে কক্সবাজারে আন্দোলনে নামতে বিএনপিতে কর্মীর অভাব নেই। ডাক দিলে হাজারও নেতাকর্মী রাজপথে নেমে আসবে। কিন্তু কেউ সমস্যায় পড়লে দায়িত্ব নেয়ার কেউ নেই। কার্যালয়ে নেতা আসছে না দেখে কর্মীও আসছে না। এমনটি হলে রায়ে বেগম জিয়ার সাজা হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর মতো অবস্থা কক্সবাজারে নেই। একই অবস্থা উপজেলাতেও।

জেলা ছাত্রদল নেতা সাইফুর ইসলাম নয়ন জানান, কোনো কারণ ছাড়াই আমার ও অন্য নেতাদের বাড়িতে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে। ধরে নিয়ে গেছে অনেক নেতাকর্মীকে। তাই বাসায় থাকতে পারছে না। ধরলেই নানা মামলা যুক্ত হচ্ছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, আদালতের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। আইনি সমস্যা আইন দিয়ে প্রতিকার পাওয়া যায়। কিন্তু রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অস্থির পরিস্থিতি সহ্য করা হবে না।

সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/পিআর

আরও পড়ুন