ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

রূপ পাল্টেছে যমুনা

জেলা প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ | প্রকাশিত: ১১:২১ এএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার পূর্ব সিমান্ত দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পাওয়ায় নদী বক্ষে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর-ডুবোচর। খেয়ালি এই নদীর গতিপথ বোঝা বড়ই দুষ্কর। দিনদিন এর প্রশস্ততা বাড়তে বাড়তে এখন ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করেছে। আর এ কারণে উজানের পানি বইতে গিয়ে যমুনা তার খেই হারিয়ে নানা শাখা-প্রশাখা, আর চর-ডুবোচরে নিজেকে প্রকাশ করছে। ভাঙছে ভরা বর্ষায় কিংবা পানিহীন গ্রীষ্মেও।

এক কালের খরস্রোতা যমুনা শুস্ক মৌসুমে প্রাণহীন এক মরুভূমি। দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে যমুনায় এখন আর পাল তোলা নৌকা অথবা লঞ্চ-স্টিমার চলেনা বললেই চলে। যমুনা এখন যেন মরুভূমি; ধু-ধু বালুচর। পালতোলা নৌকার বদলে এখন যমুনার বুকে চলাচল করে গরুর গাড়ি, ঘোড়ার গাড়ি, আর ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল, নছিমন অথবা ভটভটি। পানি কমার ফলে যমুনা নদীর ১০টি রুটে নৌ-চলাচল দারুনভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

Jamuna-River

জানা গেছে, উপজেলার মেঘাই ঘাট থেকে প্রতিদিন নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, খাসরাজবাড়ী, চরগিরিশি, মনসুর নগর, তারাকান্দি, সিরাজগঞ্জ, সহড়াবাড়ী, রূপসার চরে শতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাতায়াত করতো। শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই নদীর নাব্যতা কমে চর জেগে ওঠায় নৌযান যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক বেশি পথ ঘুরে নৌকাগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে করে ইঞ্জিনের তেল ও সময় দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। ফলে যাত্রী ভাড়া ও মালামাল পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। এসব রুটে অন্য কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা নৌযান চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

Jamuna-River

নাটুয়ারপাড়া ঘাট মালিক সমিতির সভাপতি ওমর আলী জানান, যমুনার পানি কমে যাওয়ায় আগে যেখানে নদী পার হতে পৌনে এক ঘণ্টা লাগতো এখন প্রায় দুই-আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। এতে করে দিনে একবারের বেশি কোনো নৌকার সিরিয়াল পড়ে না। যাত্রীদেরও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।

মেঘাই ঘাটের ইজারাদার জানান, অনেক টাকায় মেঘাই-নাটুয়ারপাড়া ঘাটটি ইজারা নিয়েছি। যমুনা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় ৩ কিলোমিটার দূরের নাটুয়ারপাড়া ঘাটে পৌঁছতে এখন ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। ফলে আগের চেয়ে নৌ চলাচল অনেক কমে গেছে। এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে। যাত্রী ও মালামাল পরিবহনও কমে গেছে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এফএ/এমএস

আরও পড়ুন