ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

ফারাক্কা আমাদের জন্য বিষফোঁড়া

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) | প্রকাশিত: ০৪:৫৬ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

আঞ্চলিক ও দেশীয় পর্যায়ে অপরিকল্পিত উন্নয়ন বাংলাদেশে প্রবহমান নদীগুলোকে মেরে ফেলছে। একই কারণে তৈরি হচ্ছে নদীকেন্দ্রিক মানুষের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক সমস্যা।

এমন পরিস্থিতিতে নদী ও পানিকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কথা বললেন বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও চীনের বিশেষজ্ঞরা।

শুক্রবার পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পানি ও জন-উদ্ভাবন সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশীয় ও বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন। পানির ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় জন-উদ্ভাবনের পরিচয় ও প্রচার নিশ্চিত করতে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নদী, পানি ও জন-উদ্ভাবনের বিষয় তুলে ধরেন আয়োজকরা। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ, নেপাল ও ভারতের নদীগুলোকে কেন্দ্র করে বহু দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় চুক্তি হয়। কিন্তু এসব চুক্তিতে কখনই নদীর ওপর সাধারণের অধিকার কিংবা স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে নদীর অধিকার আলোচনাকে স্থান দেয়া হয়নি। বরং উন্নয়নের নামে দেশগুলো প্রায়ই অপরিকল্পিত ব্যারেজ, বাঁধসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ও তীরবর্তী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, উজানে ফারাক্কার মতো বাঁধের কারণেই বাংলাদেশের নদীগুলো মরে যাচ্ছে। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আমাদের দেশের অপরিকল্পিত উন্নয়ন। পানি ও নদীর নিজস্ব যে একটা গতিধারা আছে, তা মাথায় না নিয়ে আমরা নদীকে ব্যবহার করছি। এর খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

এ বিষয়ে উজানের পরিস্থিতি তুলে ধরেন ভারতের গঙ্গাভাঙন প্রতিরোধ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের সময় ভারতে অনেকেই এর বিরূপ প্রভাবের কথা বলেছিলেন। তখন তাদের পাকিস্তানি চর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। ফারাক্কার কারণে ভারতেও গঙ্গার আশপাশের মানুষের অবস্থা খুব খারাপ। মানুষ জীবিকা হারাচ্ছে। নির্মূল হয়েছে সমাজ, সংস্কৃতি, কৃষি। আমরা ফারাক্কায় বাঁধ চাইনি, ব্রিজ চেয়েছিলাম। ফারাক্কা আমাদের জন্য বিষফোঁড়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ফারাক্কা শুধু বাংলাদেশের জন্যই সমস্যা না। ভারতে যারা ওই বাঁধের আশপাশে বসবাস করে, তাদের জন্যও সমস্যা। এ রকম উদ্যোগ প্রমাণ করে, নদী ও নদীপাড়ের মানুষের কথা না ভেবেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। যেটি জমিকেন্দ্রিক হওয়ায় বলি হয়েছে নদী। তিনি বলেন, আমাদের মাথা থেকে জমিভিত্তিক ধ্যান-ধারণা দূর করতে হবে। পানিকেন্দ্রিক উন্নয়নে জোর দিতে হবে।

প্রথম অধিবেশনে নেপালের মহিলা অধিকার মঞ্চের উপদেষ্টা সাবিত্রী পোখারেল একটি উদ্ভাবন তুলে ধরেন। যেখানে বলা হয়, শীত মৌসুমে পানির এ প্রবাহ কমে যায় নেপালে। পাহাড়ি এলাকার মানুষ পাহাড়ের চূড়ায় পানি সংরক্ষণ করে সেখান থেকে পাইপের সাহায্যে পানি সরবরাহ করে থাকে।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, একটা সময় মানুষ নিজস্ব উদ্ভাবন দিয়ে সেচ থেকে শুরু করে যাতায়াতের জন্যও নদীকে ব্যবহার করত। পানি ও নদীর বহুমুখী ব্যবহারে আমাদের ইতিহাস, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি ছিল সমৃদ্ধ। আঞ্চলিকভাবে নানা উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা নদীর অধিকার কেড়ে নিচ্ছি। সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও নগরায়ণ। নদীকে বাঁচাতে তাই মানুষের উদ্ভাবনকে জোর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে চীনের তিয়ানজিন ফিন্যান্স অ্যান্ড ইকোনমিকস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ঝ্যাং লিয়ান বলেন, যে উন্নয়ন হয় সেটি একদিকে দখল দূষণ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের উদ্ভাবনকে মেরে ফেলছে। সমস্যা সমাধানে কৃষক ও যুবকদের নিয়ে কথা বলতে হবে। নদীকেন্দ্রিক নতুন উদ্যোগ নিতে হবে।

এএম/জেআইএম

আরও পড়ুন