বাড়ির আঙিনায় চলছে ডাকঘরের কাজ
কোথাও ভাড়া করা ঘরে কিংবা মুদি দোকানে আবার কোথাও বাড়ির বারান্দায় চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম। যুগের পর যুগ ধরে গাইবান্ধার সাত উপজেলার ৯৮টি শাখা ডাকঘরের দৈনন্দিন কার্যক্রম এভাবেই চলে আসছে। এতে বিপাকে পড়েছেন এসব শাখা ডাকঘরে কর্মরত তিনশতাধীক পোস্ট মাস্টার, পোস্ট ম্যান ও রানার। শাখা ডাকঘরগুলোর নিজস্ব ভবন না থাকায় ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না করে দেয়া ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও স্ক্যানিং মেশিনসহ অন্যান্য উপকরণ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা।
গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘর কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার সাত উপজেলায় ১২৬টি ডাকঘর রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান ডাকঘর একটি, উপজেলা ডাকঘর ছয়টি, সাব-ডাকঘর পাঁচটি এবং শাখা ডাকঘর রয়েছে ১১৪টি। শাখা ডাকঘরের মধ্যে মাত্র নিজস্ব ভবন রয়েছে ১৬টির। এসব ডাকঘরগুলোর মধ্যে ৭৮টি শাখা ডাকঘরে তিনটি ল্যাপটপ, প্রিন্টার, স্ক্যানার মেশিন, মডেমসহ বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ল্যাংগাবাজার শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম চলে একটি কসমেটিকস-স্টেশনারির দোকানে ও একই ইউনিয়নের বালাআটা শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম চলে বাড়ির আঙিনায়। মানুষ ওই দোকান ও বাড়িতে গিয়ে চিঠি পোস্ট করেন।
এছাড়া খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণাথপুর ইউনিয়নের তালুকজামিরা বাজার ও সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বকসিগঞ্জ বাজার শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম চলে পোস্ট মাস্টার, পোস্ট ম্যান ও রানারের নিজস্ব টাকার ভাড়া করা কক্ষে।
জানা গেছে, নিজস্ব ভবন না থাকায় ডাকঘরের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে পোস্ট মাস্টার, পোস্ট ম্যান ও রানারদের। এ ছাড়া ডাকঘরগুলোতে ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও স্ক্যানিং মেশিনসহ অন্যান্য উপকরণ দেওয়া হলেও কোনো প্রশিক্ষণ না দেয়ায় সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। তাদের সম্মানী ভাতাও খুব কম।

ল্যাংগাবাজার শাখা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, বর্তমানে এই ডাকঘরের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে একটি কসমেটিকস-স্টেশনারির দোকানে। ফলে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে আমাকে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া আমাদের কোনো নিজস্ব ভবন না থাকায় খুব ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে ইলেকট্রনিক্স উপকরণগুলো নিয়ে।
বালাআটা শাখা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আব্দুল করিম বলেন, এই শাখা ডাকঘরের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে আমার নিজেরই বাড়িতে। নিজস্ব ভবন না থাকায় বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাই শাখা ডাকঘরের একটি নিজস্ব ভবন দরকার। সেইসাথে এসব ইলেকট্রনিক্স উপকরণ চালানোর জন্য প্রশিক্ষণ দরকার।
ডাক কর্মচারী পরিষদের গাইবান্ধা জেলা শাখার উপদেষ্টা গোলাম রব্বানী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে যখন একটি চিঠি পাঠাতে হয় তখন এই শাখা ডাকঘরগুলোরই প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দফতরে চাকরিপ্রার্থীদের চিঠি, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজে শাখা ডাকঘরগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই এই কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিজস্ব ভবন ও ডাক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘরের পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কেউ জমি দান করলে সেখানে ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, জেলা পোস্ট মাস্টার যদি আমাদেরকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেন, তাহলে যেখানে আমাদের খাসজমি আছে নীতিমালা অনুযায়ী তাদেরকে সহযোগিতার চেষ্টা করব।
রওশন আলম পাপুল/এফএ/জেআইএম