ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বাঁশের সাঁকো দিয়েই চলছে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

জেলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ০৪:৫১ এএম, ২২ জুলাই ২০১৫

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ বরইবুনিয়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহমান বলেশ্বর নদের ওপর ৪০০ ফুট দৈর্ঘের একটি বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করছেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। এতে বিঘ্নিত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। ভেঙে পড়ছে গ্রামীণ যোযোগ ব্যবস্থা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানে ব্রিজ না থাকায় নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না তারা। অত্যন্ত জনবহুল ও গুরুত্বপুর্ণ সাঁকোটি দু‘ইউনিয়নের সঙ্গে উপজেলা সদর ও জেলা শহর পিরোজপুরের সঙ্গে সংযোগের একমাত্র উপায়। সাঁকোর বেহাল অবস্থার কথা পিরোজপুর এলজিইডির কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পায়নি।

নাজিরপুরের মাটিভাংগা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এবিএম ফয়সাল আলম রঞ্জু বলেন, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ও শিক্ষার্থী এই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। আমি জনগুরুত্বপূর্ণ এই সাঁকোটির স্থলে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে বার বার দাবি জানিয়ে আসছি। তবে এখনো কোনো ফল পাইনি।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বলেশ্বর নদের পূর্ব দিকে নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাংগা ইউনিয়নের বরইবুনিয়া, চর বরইবুনিয়া ও চর মাটিভাংগা গ্রাম। আর পশ্চিম দিকে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চর বানিয়ারি ইউনিয়নের চর ডাকাতিয়া গ্রাম। এই চার গ্রামের সাঁকোটি ব্যবহার করে নদী পারাপার হচ্ছেন। সাঁকোর বাঁশ পুরানো হয়ে গেছে। কয়েক জায়গার বাঁশ ভেঙে গেছে।

বরইবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র মেহেদী হাসান বলেন, প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে আমাদের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই বিদ্যালয়গামী শিশুদের নদে পড়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, ২০ বছর আগে বলেশ্বর নদ পারাপারের জন্য গ্রামবাসীর সহযোগিতায় মহর আলী নামের এক ব্যক্তি নদের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করেন। এর আগে মহর আলী খেয়া নৌকায় গ্রামবাসী ও বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের পারাপার করতেন। প্রতি বছর স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছ থেকে ধান তুলে মহর আলী। গ্রামবাসীর কাছ থেকে তোলা ধান বিক্রি করে ওই টাকায় সাঁকো নির্মাণ ও মেরামত করেন তিনি।

বরইবুনিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয় মালাকার বলেন, বরইবুনিয়া গ্রামের দুইটি মাধ্যমিক ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। পার্শ্ববর্তী চর ডাকাতিয়া গ্রামের দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন বলেশ্বর নদের ওপর তৈরি বাঁশের সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয় যাওয়া আসা করে। এছাড়া বরইবুনিয়া, চর বরইবুনিয়া, চর মাটিভাংগা ও চর ডাকাতিয়া গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ প্রয়োজনে এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করছেন।

মাটিভাংগা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মহর আলী শেখ ও চিতলমারি উপজেলার চর ডাকাতিয়া গ্রামের কৃষক অনিমেষ মন্ডল (৪৫) বলেন, আমাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য পার্শ্ববর্তী শৈলদাহ, মাটিভাংগা ও তারাবুনিয়া বাজারে বিক্রির জন্য বরইবুনিয়া সাঁকো দিয়ে চলাচল করছি। সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমাদের চলাচল করতে কষ্ট হয়।

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, চেষ্টা করছি যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য। অর্থ বরাদ্দ পেলে সাঁকোটির স্থলে পাকা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব।

এসএস/পিআর