ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. দেশজুড়ে

বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে মসজিদ কবরস্থান ফসলি জমি

জেলা প্রতিনিধি | সিরাজগঞ্জ | প্রকাশিত: ০৮:৫৯ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সিরাজগঞ্জের চৌহালীর যমুনা নদী থেকে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি। এতে হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসত-বাড়ি, মসজিদ, কবরস্থান ও ফসলি জমি।

প্রায় দেড়মাস ধরে উপজেলা সদরের দক্ষিণে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি অবগত নয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিছুর রহমান। তবে অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ইউএনও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনার ভাঙনে বিধ্বস্ত চৌহালী উপজেলার অবশিষ্ট অংশকে যমুনার করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় নির্মিত ১০৭ কোটি টাকার নদী তীর রক্ষা বাঁধের দক্ষিণে খাষপুখুরিয়া এলাকায় যমুনা নদীর পাড়ের পাশে তলদেশ থেকে স্থানীয় একটি বালুদস্যু চক্রের নেতৃত্বে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির মহোৎসব। চৌহালী উপজেলার কোথায়ও অনুমোদিত কোনো বালুমহাল নেই এবং নদী থেকে বালু উত্তোলনে নেই প্রশাসনের অনুমতিও।

এরপরও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে ড্রেজারসহ বিভিন্ন দেশীয় পদ্ধতিতে বালু তুলে গড়েছে বালুর স্তূপ। সেখান থেকে কিনে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে নির্মাণকাজ ও খাল ভরাটের কাজ চলছে। বালু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে বালু বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আর সরকার হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব। তবে বালুদস্যুদের কাছ থেকে প্রশাসনের কতিপয় কর্তা ব্যক্তি নিচ্ছে অনৈতিক সুবিধা এমন অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী।

এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছরই ভয়াবহ নদী ভাঙনের কবলে পড়ছে চৌহালী উপজেলা। বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় হুমকির মুখে রয়েছে নদী তীরবর্তী ঘরবাড়ি ও আবাদি জমির মালিকরা। এ অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নেই প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ।

এ ব্যাপারে পাউবো ও ভূমি বিভাগসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্তা ব্যক্তিদের নজরদারির পাশাপাশি যথাযথ ভূমিকা রাখা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে বলে এলাকাবাসী মনে করেন।

এ বিষয়ে ড্রেজারের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া না গেলেও কর্মরত শ্রমিক আবু তালেব জানান, মোটামুটি একমাস ধরে এলাকার মানুষের ভিটা বাড়ি ও খাল ভরাটের জন্য যমুনা নদী থেকে বালু তুলছি। এ বিষয়ে এলাকার সবাই অবগত।

যমুনা নদীর বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি আপনাদের আছে কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মালিক জানেন। মালিক তো সব সময় থাকে না, আমরা শ্রমিক কাজ করি। এর চেয়ে বেশি বলতে পারবো না।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনিছুর রহমান জানান, চৌহালীতে কোনো ইজারাকৃত বালুমহাল নেই। খাষপুখুরিয়া এলাকায় বালু উত্তোলনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/জেআইএম

আরও পড়ুন