ভালোবাসায় একাকার দুই বাংলার মানুষ
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বসেছিল দুই বাংলার বাংলাভাষী মানুষের মিলনমেলা।যশোরের বেনাপোল আর ওপারের পেট্রাপোলের মধ্যে সীমান্তের শূন্যরেখায় বুধবার একুশের সকাল থেকে মুখর ছিল গান, আবৃত্তি, নাচ আর দুই বাংলার কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী-রাজনীতিবিদদের পদচারণায়।
এক সময় ভারত ও বাংলাদেশ অংশে আলাদাভাবে একুশের মঞ্চ তৈরি হলেও এবারও চেকপোস্টের শূন্যরেখায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চ’ নামে ছিল মূল আয়োজন।
অমর একুশের অমর সুরের সঙ্গে মঞ্চ থেকে ভেসে আসা ‘একই আকাশ, একই বাতাস/এক হৃদয়ে একই তো শ্বাস’ গানের সুর যেন সবাইকে বেঁধে রাখে। বাঁধন হারা আবেগ আর ভালোবাসায় একাকার হয় দুই বাংলার মানুষ।
ভাষা দিবস মিলিয়ে দিলো এপার-ওপার। বাঁশের বেড়া উপেক্ষা করে ভাষার দাবিতে আন্দোলনে শহীদদের সম্মিলিত শ্রদ্ধা জানালো ভারত-বাংলাদেশ। ভৌগলিক সীমারেখা ভুলে ভাষার টানে দুই বাংলার মানুষ একই মঞ্চে গাইলেন বাংলার জয়গান।
‘বিশ্ব মানব হবি যদি, কায় মনে বাঙালি হ’ স্লোগানকে সামনে রেখে এপার-ওপার দুই বাংলার মৈত্রী পরিষদের আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যৌথভাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে এবারও পালন করেছে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একুশে মঞ্চ’।
বেনাপোল চেকপোস্ট নোম্যান্সল্যান্ডে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানো হয়। মিষ্টি বিতরণ, আলোচনা আর গানে গানে মাতোয়ারা হলো দুই বাংলার একই আকাশ-বাতাস।

উভয় দেশের জনপ্রতিনিধিরা বলেন, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির কথা। অনুষ্ঠানকে ঘিরে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী। নেতাদের কণ্ঠে ছিল, ভবিষ্যতে আরও বড় করে এক মঞ্চে একুশসহ অন্যান্য অনুষ্ঠান উদযাপনের প্রত্যাশা। উভয় দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এতে অংশ নেয়।
দুই দেশের জাতীয় পতাকা, নানা রঙয়ের ফেস্টুন, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, আর ফুল দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা। দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলায় উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি হয়। সেইসঙ্গে মিলনমেলায় আবেগাপ্লুত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সব ভেদাভেদ ভুলে একে-অপরকে বুকে টেনে নেন। ভুলে যান সীমান্তরেখার বাধা। সকাল সাড়ে ১০টায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের খাদ্য ও সরবরাহমন্ত্রী জ্যোতি প্রিয় মল্লিক, লোক সভার বনগাঁ অঞ্চলের এমপি মমতা ঠাকুর, বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ও বনগাঁ পৌর মেয়র শংকর আঢ্যর নেতৃত্বে ভারত থেকে আসা শতশত বাংলাভাষী মানুষ বাংলাদেশিদের ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে ও মিষ্টি দিয়ে বরণ করে নেয় একে-অপরকে।
নোমান্সল্যান্ডে অস্থায়ী শহীদ বেদীতে প্রথম ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান উভয় দেশের জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুজিদ, ৪৯-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল হক, কাস্টমসের যুগ্ম-কমিশনার আ আ ম আমীমুল ইহসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার ও বেনাপোল পৌর সভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।
অনুষ্ঠানে উভয় দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো অংশ নেয়। ভাষা দিবসের মিলনমেলায় বিজিবি ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় বিএসএফকে। এরপর দুই দেশের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী দিবসটি উদযাপন করে যৌথভাবে। এ সময় ভাষার টানে বাঙালির বাঁধন হারা আবেগের কাছে মিলে মিশে একাকার হয় দুই বাংলার মানুষ।
এর মধ্য দিয়ে দেখা যায়, রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারের ভাষার জন্য দেয়া রক্ত বৃথা যায়নি। ভাষার আকর্ষণ ও বাঙালির নাড়ির টান যে কতটা আত্মিক ও প্রীতিময় হতে পারে তা দেখালো দুই বাংলার মানুষ।
মোঃ জামাল হোসেন/এএম/জেআইএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ ভোট চাইতে গিয়ে হেনস্তার প্রতিবাদে যশোরে জামায়াতের মহিলা শাখার বিক্ষোভ
- ২ তিন দফা জানাজা শেষে জামায়াত নেতা বাদলের দাফন সম্পন্ন
- ৩ পোস্টাল ব্যালটে জোরপূর্বক ভোট আদায়, পোস্ট মাস্টার বলছেন ভিত্তিহীন
- ৪ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করলে জনগণ মিডিয়াকেও লালকার্ড দেখাবে
- ৫ বিএনপিতে যোগ দিলেন খেলাফত মজলিসের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী