খানাখন্দে ভরপুর মৌলভীবাজারের ৪৩৬ কি:মি: সড়ক
গত বছরের দীর্ঘ মেয়াদী বন্যা আর সঠিক রক্ষণা-বেক্ষণের অভাবে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন রাস্তা ভেঙে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগে আছে জেলাবাসী।
এলজিইডি ও সওজ জানায় ভাঙাচুরা রাস্তার পরিমাণ ৪৩৬ কি:মি:। এর মধ্যে সওজ এর ৮৬ কিলোমিটার। এলজিইডির ৩৫০ কিলোমিটার সড়ক। সড়ক বিভাগের লোকজন বিভিন্ন গর্তে ইট ও বালু ফেলে জোড়া তালি দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তা টিকছে না।
সঠিক সময়ে রক্ষণা-বেক্ষণের অভাব, গত বছরে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা, অতিবৃষ্টি ও সঠিক পরিকল্পনার না থাকার কারণে মৌলভীবাজারের অধিকাংশ রাস্তা ভেঙে গেছে। বন্যায় পাকা রাস্তা দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকায় এবং অতিবৃষ্টির কারণে সবকটি উপজেলার সংযোগ সড়কে তৈরি হয়ছে ছোট-বড় গর্ত। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার দু'পাশের মাটি ভেঙে গিয়ে সরু হয়ে গেছে।
খানাখন্দরে পরিপূর্ণ এই বেহাল সড়কে মানুষের দুর্ভোগ চরমে। ঘটছে দুর্ঘটনা। বিকল হচ্ছে যানবাহন। রোগীবাহী গাড়ি ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারছে না, বিশেষ করে গর্ভবতী ও বয়স্ক রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে। একই সঙ্গে পর্যটকরাও পড়ছেন বিড়ম্বনায়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে কাঁচামালের ব্যবসায়ীরা।
সরজমিনে জেলার বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরে দেখা যায়, প্রাথমিকভাবে কিছু কিছু জায়গায় সড়ক বিভাগের লোকজন বিভিন্ন গর্তে নামে মাত্র ইট ও বালু ফেলে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতেই তা উঠে যাচ্ছে ওইসব ইট ও বালু। সৃষ্টি হচ্ছে ধুলার। যার ফলে বাড়ছে বিভিন্ন রোগ। প্রয়োজনের তুলনায় মেরামতের উদ্যোগ নেই। অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে দীর্ঘদিন মেরামত কাজ না হওয়ায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অবশিষ্ট অংশু।
জেলার রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ি, বড়লেখা, সদর উপজেলার অধিকাংশ সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক অংশে সড়কের নিচ থেকে মাটি বের হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় ঝুকিপূর্ণ গর্ত।
চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না বলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মৌলভীবাজার এলজিডি কার্যালয়ের তথ্য মতে, সদর উপজেলায় ৩৫, কমলগঞ্জ উপজেলায় ৪, শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ২৯, বড়লেখা উপজেলায় ৬৬, জুড়ি উপজেলায় ৩২, কুলাউড়া উপজেলায় ৪০, রাজনগর উপজেলায় ৫৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ মৌলভীবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অতিবৃষ্টিতে তাদের ৮৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা চাতলা থেকে গর্ভবতী রোগী নিয়ে শহরে আসা আব্দুল মুহিত জানালেন, রাস্তার এত খারাপ অবস্থা যে আবার বাড়ি ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছি।
এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী) মৌলভীবাজার জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, প্রাথমিকভাবে সংস্কার ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা দিয়ে সব সড়ক সংস্কার করা সম্ভব নয়।
রিপন চন্দ্র দে/এমএএস/এমএস